Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

এমসিজের সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখরিত টিএসসি

ফারজানা তাসনিম পিংকি

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১২:০৪ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:৫৩ পিএম, ১ আগস্ট ২০১৮ বুধবার

এমসিজের সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখরিত টিএসসি

এমসিজের সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখরিত টিএসসি

গত ১৪ই নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বর্ণাঢ্য বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিদায়ী শিক্ষকদের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা, অগ্রায়ন ও নবীনবরণের সাথে বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় জমে ওঠে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা।

মধ্যাহ্ন ভোজের পর উদ্বোধনী নাচের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ বছরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’ এই থিমকে সামনে রেখে বিভিন্ন ঋতুভিত্তিক গানের সাথে নাচের আয়োজন করে বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্রীরা। নাচের পরেই মঞ্চস্থ হয় অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ নৃত্যাবৃত্তি ‘ঋতুবসনা’। ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে এক বাঙালি যুগলের প্রেমের বিভিন্ন পর্ব উপস্থাপনের  সাথে উঠে আসে বাঙালি সংস্কৃতির নানা দিকও।

বাংলাদেশের আদিবাসী সংস্কৃতির চমৎকার কয়েকটি গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা। দশম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা ও প্রাণবন্ত অভিনয়ে দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায় তেভাগা আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত নাটক ‘ধান দে’। ব্রিটিশ শাসনামলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে কৃষকদের জমির মালিকানা চলে যায় জোতদার শ্রেণীর হাতে, ‘আধিয়ারী’ ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত শস্যের অর্ধেক জমিদারদের হাতে তুলে দিতে হতো বর্গা চাষিদের। বর্গা চাষি, অত্যাচারী জমিদার, সংগ্রামী কৃষক নেতা ইলা মিত্র এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবীতে সংঘটিত লাঠির লড়াইয়ের অনবদ্য সংমিশ্রণে পরিবেশিত নাটকটি যেন দর্শকদের নিয়ে যায় তেভাগা আন্দোলনের সময়ে।

এ বছর নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যু বাংলা সিনেমার জন্য বয়ে আনে এক অপূরণীয় শূন্যস্থান। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় রাজ্জাকের গানের সাথে নাচে। অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে প্রদর্শিত হয় বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হাসান সঙ্গীত পরিচালিত শর্ট ফিল্ম ‘দ্য আনবর্ন লেটার’। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক শর্ট ফিল্ম প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে ‘দ্য আনবর্ন লেটার’। বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মেয়েকে কোন কোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয় তারই প্রতিফলন ঘটেছে এই শর্ট ফিল্মটিতে।

এ বছরের হারানো শিল্পীদের তালিকায় আরও দুটি নাম আব্দুল জব্বার ও লাকী আখন্দ। তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত শাহীনের নির্দেশনায় তার সাথে গুণী এই দুই শিল্পীর ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘আমায় ডেকো না’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দেয় বর্তমান চার শিক্ষার্থী। এরপর কিংবদন্তী শিল্পী কুমার বিশ্বজিতের ‘একতারা বাজাইও না’ গানটির সাথে ছেলেদের দলগত নৃত্য পরিবেশিত হয়। ব্যতিক্রমধর্মী নাচ `মোশনলেস ড্যান্স` দর্শকদের জন্য নিয়ে আসে নির্মল বিনোদন।

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় আকর্ষণীয় ফ্যাশন শো, যার সার্বিক সহযোগিতায় নিয়োজিত ছিল রেড বিউটি স্যালন। বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য চমক হিসেবে ছিল শোস্টপার হিসেবে অংশ নেয়া বিভাগের তিন নবীন শিক্ষক আমিনা খাতুন, আসাদুজ্জামান কাজল এবং তাহমিনা হক। এরপর জনপ্রিয় কিছু বৃষ্টির গানের সাথে বর্ষাবরণ নৃত্যের আয়োজন করে দশম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। সবশেষে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ প্রযোজিত, অষ্টম ব্যাচ নিবেদিত বহুল প্রতীক্ষিত বাংলা সিনেমা ‘নাচে নাগিন, বাজে বীণ’ প্রদর্শনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় মনোমুগ্ধকর এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সপ্তম ও অষ্টম ব্যাচের চার শিক্ষার্থী গোটা অনুষ্ঠান জুড়ে তাদের সাবলীল উপস্থাপনায় মাতিয়ে রেখেছিলেন দর্শকদের।