sSiteTitle

কাঙ্ক্ষিত সেবা নেই ঢাবি চিকিৎসা কেন্দ্রে

মনির উদ্দিন

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১১:০৯ এএম, ৮ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০১:৩৮ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার

 

সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা খোলা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে। অপ্রতুল চিকিৎসক, ওষুধের সংকট, প্যাথলজিতে কালক্ষেপণ,  প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ না থাকা, কর্মকর্তাদের অসৌজন্যমূলক ব্যবহারসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ১ লাখ ৪০ হাজার জনের জন্য ৫ জন খণ্ডকালীনসহ মেডিকেল সেন্টারে মোট চিকিৎসক আছেন মাত্র ২৫ জন।

৪ টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সার্বক্ষনিক প্রস্তুত থাকে মাত্র ২ টি অ্যাম্বুলেন্স। আর মেডিকেল সেন্টারে ২০ টি শয্যা থাকলেও বেশিরভাগেরই বেহাল দশা।

সাধারণ চিকিৎসা ছাড়াও এখানে দন্ত বিভাগ, চক্ষু বিভাগ, এক্স-রে বিভাগ এবং প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে ।  চক্ষু চিকিৎসক আছেন মাত্র একজন যিনি আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দন্ত বিভাগে দুইজন চিকিৎসক। আর নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ হিসেবে আছেন মাত্র একজন চিকিৎসক যিনি সপ্তাহে মাত্র দুইদিন বসেন যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

দিনের বেলা যথেষ্ট ডাক্তার থাকলেও রাতের বেলা দায়িত্ব পালন করেন মাত্র একজন ডাক্তার।

তারপরও যারা আছেন তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে  উদাসীনতার অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।

এখানে কোনো রোগের পরীক্ষা করালে রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হয় এক দিনেরও বেশি। মেডিকেল সেন্টারে এক্সরে করার জন্য সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে যেতে হয়। এক্সরে রিপোর্ট পাওয়া যায় একদিন পরে।

প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের  শিক্ষার্থী রুবেল আহমেদ বলেন, ‘৪ মাস আগে মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার আমাকে ৫ টি টেস্ট করাতে বলেন।  মেডিকেল সেন্টারে ২ টি টেস্ট করানো  গেলেও বকি ৩ টি টেস্ট আমাকে বিএসএমএমইউ থেকে করাতে হয়েছে।  আর ওষুধ কিনতে হয়েছে বাইরের ফার্মেসি থেকে।’ 
মেডিকেল সেন্টারে শুধু প্যারাসিটামল ছাড়া আর কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না অভিযোগ করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ফারুক হোসেন বলেন, ‘যদি ওষুধ পাওয়া না যায় আর প্রয়োজনীয় টেস্ট করানো না যায় তাহলে মেডিকেল সেন্টার থাকারই বা প্রয়োজন কী?’ তিনি বলেন, ‘সাধারণত অল্প দামের ওষুধ পাওয়া যায় এখানে। একটু বেশি দামের হলেই বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দেয়া হয়।’

মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা মো. ফিরোজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতি বছর মেডিকেল সেন্টারের জন্য প্রায় ১ (এক) কেটি টাকা বাজেট দেয়। এখান থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৩০/৩৫ লক্ষ টাকার ওষুধ কেনা হয়।

মেডিকেল সেন্টার কর্তৃপক্ষ ২০ টি শয্যার কথা বললেও ৬ নভেম্বর সরেজমিনে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষে ৮ টি শয্যা যার মধ্যে ৫টি খুবই অপরিচ্ছন্ন। আর বাকি ৩ টিতে ৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি আছেন।  ওয়ার্ডের অন্য দুটি কক্ষ তালাবদ্ধ যেখানে লেখা আছে ‘জলবসন্ত রোগীদের কক্ষ (ভাইরাস আক্রান্ত) সাধারণের প্রবেশ নিষেধ।’

ওয়ার্ডের বারান্দা অপরিষ্কার। আর বেহাল অবস্থা স্যানিটেশন ব্যবস্থার। যার ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীরা।

সার্বিক বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী বলেন, ‘ প্রয়োজনের তুলনায় এখানে ডাক্তার অপ্রতুল, সুযোগ সুবিধা অপ্রতুল। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভাল সার্ভিস দিতে।  এখানে যে পরীক্ষা গুলো হয় সেগুলো আধুনিক মানের।  তবে এখানে আমরা সব পরীক্ষা করতে পারি না। কারণ সব যন্ত্রপাতি আমাদের নেই। আমাদের জন্য বার্ষিক যে বাজেট হয় তা দিয়ে এসব যন্ত্রপাতি কেনা সম্ভব নয়।’

ওষুধের অপ্রতুলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মেজর সমস্যা নিয়ে কেউ এখানে আসে না। কিন্তু আমাদের ডিসপেনসারিতে প্রয়োজনীয় সব ওষুধ আছে। কারো অ্যান্টিবায়োটিক দরকার না হলে তো আমি তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দিব না।’

মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নে কোনো উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েছে কিনা  এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নে বা সম্প্রসারণে কোনো উদ্যোগ আছে বলে আমার জানা নেই।  শুনেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে কাজ করবে। তবে সেটা পরে আর বাস্তবায়িত হয়নি।’


সার্বিক বিষযে জানতে গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের অফিসে গেলে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। রাতে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি।