sSiteTitle

টিএসসির কোণে বইপ্রেমীদের এক স্বর্গরাজ্য!

ওয়াহিদা জামান সিথি

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০১:২০ এএম, ৮ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০২:৩৬ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার

ঢাবি প্রকাশনা সংস্থার বিপণন কেন্দ্রে সাজানো বইয়ের সারি

ঢাবি প্রকাশনা সংস্থার বিপণন কেন্দ্রে সাজানো বইয়ের সারি

টিএসসির মূল গেইট পার হয়ে হাতের বামে একটু ভালো করে তাকালেই চোখে পড়ে নীল রঙের সাইনবোর্ড- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থাঃ বিপণন শাখা। সেই সাইনবোর্ডের নিচের দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেই আপনি চলে যাবেন বইয়ের এক অনন্য রাজ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পাঠ্যবই, গবেষণাপত্র ছাড়াও এখানে আছে আরো নানা বিষয়ের অসংখ্য বই। মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, শিল্প, বিজ্ঞান- কি নেই এখানে! হোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রকাশনা কিংবা জনপ্রিয় অন্যান্য প্রকাশনা সংস্থার বই- সবই পাওয়া যাবে এই এক জায়গায় এক ছাদের নিচে।

 

১৯৮২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমেরিটাস ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর একান্ত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. ফজলুল হালিম চৌধুরীর সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিপণন শাখা, তখন এটি ছিল বর্তমান ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার স্থানে, জানান এই সংস্থার বর্তমান উপ-পরিচালক (সেলস) ভবরঞ্জন চক্রবর্তী।

 

তবে এই বিপণন সংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় আরো পরে, ১৯৯৩ সালে।

 

এই বুকশপটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আয়ের উৎস দাবী করে ভবরঞ্জন চক্রবর্তী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে গড়ে এই বিপণন কেন্দ্র থেকে বিক্রি হয় প্রায় প্রায় ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বই, মাসে আড়াই লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ এবং বার্ষিক অর্থাৎ এক শিক্ষাবর্ষে আয় ৩৪-৩৫ লাখ টাকা।  

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা সংস্থার ৩টি অংশের একটি এই বিপণন সংস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখানে রাখা হয়েছে অন্যান্য আরো প্রকাশনা- যেমন- প্রথমা, মাওলা ব্রাদার্স, অনন্যা, অন্যপ্রকাশ, বাংলা একাডেমী, আগামী, দিব্য, কথা প্রকাশনা, পাঞ্জেরী, নবযুগ, কাকলী, অনিন্দ্য, শোভা, মেরিট, গোবিন্দদেব গবেষণাসহ প্রভৃতি প্রকাশনার বই, জানান এই বিপণন সংস্থার সিনিয়র সেলস নাদিরা সুলতানা।

 

নিজস্ব প্রকাশনীর উপর এখানে ৩০ শতাংশ কমিশন দেয়া হয় এবং অন্যান্য প্রকাশনীর ক্ষেত্রে তা দেয়া হয় ২০ শতাংশ পর্যন্ত। 

 

এছাড়া, প্রতিবছর বৈশাখ মাসজুড়ে থাকে বিশেষ মূল্যছাড় এবং প্রতিবছর বইমেলায় অংশগ্রহণও করে থাকে এই প্রকাশনা সংস্থা এবং বিপণন সংস্থা।

 

বইয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাতা, স্মারক মগ, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি সুভ্যনির ও পাওয়া যায় এই বুকশপে।

 

বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক এবং সাবেক শিক্ষার্থীরাও আসেন এই বুকশপ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় বই কিনতে।

 

বিপণন সংস্থার রোজকার ব্যস্ততা

 

ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মার্জিয়া রহমান নিয়মিত বই কিনতে যান এই বুকশপে। তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ে হাতের কাছে প্রায় সব প্রকাশনীর গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো পাওয়া যায় এখানে। বিশেষ করে কিছু বিভাগ যেমন সমাজ বিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিভাগের বই বেশ সহজলভ্য এখানে।

 

বিশেষায়িত বইয়ের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও একটু খুঁজে দেখলে অনেক দুর্লভ বইও পাওয়া যায় এখানে বলে জানান এই প্রভাষক।  

 

উম্মে হৃদয়, ঢাবির ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জানান, প্রয়োজনীয় রেফারেন্স বইগুলো সহজেই পাওয়া যায়। তাই অন্য কোথাও যাওয়ার আগে এখানে একবার খুঁজি। একসাথে একজায়গায় বইগুলো থাকে বলে অনেক জায়গায় দৌড়াতে হয় না। জায়গাটা একটু ছোট হলেও এখানকার পরিবেশও বেশ নিরিবিলি।

 

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই খুঁজতে আসা আরেক শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সঞ্জয় বসাক পার্থ জানান- এই বুকশপের একটা চমৎকার দিক হলো এখানে মুক্তযুদ্ধভিত্তিক বইয়ের সংগ্রহ বেশ সমৃদ্ধ। এখানকার স্টাফরাও খুব হেল্পফুল। কোন বই এর খোঁজ নিতে গেলে তারা সবসময় সাহায্য করে এসেছেন।

 

তাইতো সুন্দর রঙিন মলাটের এই বইয়ের রাজ্যে আনাগোণা লেগেই থাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আরো নানা পেশাজীবী বইপ্রেমীদের।

 

তবে দিন দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই কেনার আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভবরঞ্জন চক্রবর্তী।

হার্ডকপির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণ শিক্ষার্থীরা। ক্লাসের পড়াশোনার জন্য বই নয়, পিডিএফএই স্বাচ্ছন্দ্য তারা 

 

তিনি বলেন, আগে এই বুকশপের বার্ষিক আয় ছিল আরো বেশি। কিন্তু এখন তরুণরা ঝুঁকে পড়েছে পিডিএফ এর প্রতি। পাঠ্যবইয়ের বিকল্প হিসেবে তারা বিভিন্ন স্লাইড এবং পিডিএফ ফাইলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যার ফলে ক্রেতাদের আনাগোণা আগের থেকে অনেক কমে গিয়েছে।

 

হার্ডকপির প্রতি অনাগ্রহকে এই বুকশপের সেল কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে দাবী করেন তিনি।

 

বাইরের বই সংগ্রহে আনার কোন পরিকল্পনা আছে কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূলত লাইসেন্স নেই বলে আমরা এখনো বিদেশী বই আমদানী করতে পারছি না। 

 

এতো বছরে কম্পিউটারাইজড করার জন্যও নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ।

 

একজন পূর্ণকালীন পরিচালক থাকলে এই বুকশপের খুঁটিনাটি সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হতো এবং এটি বইপ্রেমী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরো বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করতো বলে ধারণা প্রকাশ করেন এই উপ-পরিচালক।   

 

শুক্র-শনি এবং সরকারি ছুটির দিনগুলো বাদে বাকিদিনগুলোতে এই বিপণন কেন্দ্র খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। মাঝে দুপুর ১টা থেকে ১ঃ৩০ পর্যন্ত বিরতি।

 

এখান থেকে বই কিনতে কোন মেম্বারশিপ কার্ড এর প্রয়োজন হয় না। তাই যে কেও অথেনটিক ক্যাশ মেমোসহ বই কিনতে চাইলে চলে আসতে পারে এই বুকশপে। নিজের সংগ্রহের জন্যই হোক কিংবা প্রিয় মানুষকে পছন্দের বইটি উপহার দিতে এই বুকশপটি আছে একদম হাতের কাছেই। 

এই বুকশপটি নিয়ে তৈরী প্যাকেজ নিউজ দেখুন নিচের লিংকে-