sSiteTitle

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে আন্তর্জাতিক মানের ‘ই-লাইব্রেরী’

সাদিয়া নাসরিন

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১০:৩৫ এএম, ৮ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৭:৫৬ এএম, ৯ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক রিডিং রুম

শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক রিডিং রুম

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড-খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের সাথে সাথে প্রতিনিয়ত যেন নিজেকে বদলে নিচ্ছে। এই পরিবর্তনে নব্য সংযোজন হল ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ই-লাইব্রেরী। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এই লাইব্রেরীটি শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞানের এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত এই ই-লাইব্রেরীটি ২০১৫ সালের ১০ই আগস্ট কার্যক্রম শুরু করে, যার নির্মাণ শুরু হয়েছিল ২০১৪ এর ১১ জুলাই। ১২ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে নির্মিত লাইব্রেরীটির নকশাকার `স্থানিক আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্টস` এর মাজহারুল ইসলাম।

ই-লাইব্রেরিতে রয়েছে টিচার্স লাউঞ্জ, টিচার্স মিটিং রুম, ডিসকাশন রুম, সাইলেন্ট রিডিং রুম, এমফিল ও পিএইচডি স্টাডি রুম, সার্ভার রুম, জার্নাল সেকশন রুম, ব্রাউজিং সেকশন, রিফ্রেশমেন্ট গার্ডেন এবং ক্যাফটেরিয়া। এছাড়া ফটোকপি এবং প্রিন্টিং সুবিধা থাকায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জার্নাল ও বই প্রিন্ট করে নিয়েও পড়তে পারছে।

ডিসকাশন রুমে চলছে গ্রুপ স্টাডি

ডিসকাশন রুমে চলছে গ্রুপ স্টাডি

ছাত্রছাত্রীরা এখানে লাইব্রেরীর সংগ্রহে থাকা ৫০০০ বইয়ের সাহায্যে নিয়মিত পড়াশোনা করছে। এছাড়াও পাশাপাশি অনলাইনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ন্তজাতিক প্রকাশনার বই পড়ার সুবিধা রয়েছে। টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস, সেইজ, ওর্য়াল্ড সাইন্টিফিক, পিয়ারসন, ডে গ্রইটার লিস বুকস কালেকশন, মেকগ্র হিল, মাই লাইব্রেরি, অক্সর্ফোড অনলাইন, ক্যামব্রিজের মতো নামকরা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ তালিকায়।

ছাত্রছাত্রীরা ছাড়া শিক্ষকরাও লাইব্রেরিতে বসে বিভিন্ন কাজ বা গবেষণার কাজ করতে পারছেন। শিক্ষকদের জন্য লাউঞ্জ, প্যান্ট্রি সহ আলাদা বসার জায়গা আছে। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদিয়া আহমেদ গবেষণার কাজে নিয়মিত ই-লাইব্রেরিতে আসেন। তাঁর মতে, এটি নিঃসন্দেহে একটি দারুণ উদ্যোগ। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক মানের লেখাপড়া করতে পারবে, আর আমরা শিক্ষকরাও ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি নিজেদের বিষয় সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনায়াসে চালিয়ে যেতে পারবো।

ই-লাইব্রেরি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামীর ব্যবসায়িক নেতৃত্ব তৈরিতে সহায়ক হবে। এর সুবিধাবলী ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে বলে মনে করেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। তবে ই-লাইব্রেরীর যাবতীয় সুবিধা কেবল ব্যবসায় অনুষদের শিক্ষার্থীদের মাঝে সীমাবদ্ধ কেন?- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "অন্যান্য অনুষদের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ই-লাইব্রেরী ব্যবহার করতে পারবে, তবে জায়গার স্বল্পতার কারণে এখনই সব অনুষদের ছাত্রদের সরাসরি লাইব্রেরীতে অনুমতি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।" তিনি আরও বলেন, এ সুবিধা গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় এমন মানবসম্পদ তৈরি করতে পারবে, যারা বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন।

ব্রাউজিং সেকশনে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৬ হাজার ৯২ জন শিক্ষার্থী ও ২০৮ জন শিক্ষক সরাসরি এই লাইব্রেরির সুবিধা গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছে। ই-লাইব্রেরীর মূল বৈশিষ্ট্য হল, এটি বাস্তবের সাথে সাথে অনলাইন দুনিয়ায়ও সমানভাবে কার্যকরী। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা এখানে কেবল কাগজের বই পড়ে না, দেশ বিদেশের অনেক দুর্লভ বই ও জার্নালের ভার্চুয়াল এক্সেস পায় তারা। এছাড়াও লাইব্রেরীতে সার্বক্ষণিক হাই-স্পীড ইন্টারনেটের সুবিধা ‘ই-লাইব্রেরী’ নামকরণের সার্থকতা তুলে ধরে। 

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৌহৃদ জামান নিদ মনে করেন, এই লাইব্রেরীর সাথে অন্যান্য লাইব্রেরীর পার্থক্য হল, এটি কেবল বই আদান প্রদানের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেনি, ডিসকাশন রুম, সাইলেন্ট রিডিং রুম, ব্রাউজিং সেকশন, ক্যাফটেরিয়া প্রভৃতি যুক্ত করার মাধ্যমে একটি শিক্ষাবান্ধব কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

নান্দনিক নির্মাণশৈলীর মাঝে গড়ে উঠেছে জ্ঞানের এই রাজ্য 

বর্তমানে লাইব্রেরী সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা র্পযন্ত মোট ১৬ ঘন্টা খোলা থাকছে। এই সময়টাকে ২৪ ঘন্টা করা হতে পারে বলে জানান প্রধান লাইব্রেরীয়ান ফেরদৌসী বেগম। এখন লাইব্রেরীতে মোট ৩০৯ টি সীট সংখ্যা ও ১০৭ টি কম্পিউটার আছে, এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে লাইব্রেরী এরিয়া আরও বর্ধিত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। 

তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। তথ্য-প্রযুক্তির সর্বশেষ সেবাটিতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতেই এ লাইব্রেরী চালু করা। দেশের প্রথম এবং একমাত্র ই-লাইব্রেরী হিসেবে এর সুশৃঙ্খল ডিজিটাল ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

এক ঝলকে চলুন দেখে নেই দেশের প্রথম ই-লাইব্রেরী-