Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবি হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল

অভিযোগ বক্স নিয়ে অভিযোগ

আবু সাঈদ ইসিয়াম

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০১:২৮ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

অভিযোগ বক্স নিয়ে অভিযোগ

অভিযোগ বক্স নিয়ে অভিযোগ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল।  হলে ঢুকলেই প্রথমে চোখে পড়ে অতিথি কক্ষ।  সেই কক্ষের বাইরের দেয়ালে টাঙ্গানো রয়েছে একটি অভিযোগ বক্স। দেখেই বোঝা যায় অনেকদিন ধরেই বক্সটি খোলা হয় না।  অভিযোগপত্র দেয়ার পর হয়তো বিচার না পাওয়া কোনো শিক্ষার্থী ক্ষোভের বশে বক্সটির গায়ে লিখে রেখেছেন, ‘এটা কি খোলে কখনো?’ এ বিষয়ে হলের শিক্ষার্থীরা বলছেন, নামেই অভিযোগ বক্স থাকলেও তা আসলে কোনো কাজে আসে না। কিন্তু হল প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী তা প্রভোস্টের মাধ্যমে সমাধান করা হয়।  

হল অফিস সূত্র জানায়, বছর খানেক আগে এই বক্সটি বসানো হয়।  প্রতি সপ্তাহে এটি খোলা হয়।  অভিযোগ পাই, তবে অভিযোগকারীরা নিজেদের পরিচয় উল্লেখ করেন না।  যার কারণে অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না।  তবে অভিযোগ থাকলে তা লিখিত আকারে সরাসরি আমাদের কাছে দেয় শিক্ষার্থীরা।  সে অনুযায়ী প্রভোস্ট মহোদয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন ভিন্ন কথা।  তাদের অভিযোগ, তারা বিভিন্ন সময়ে নানা অসঙ্গতির বিষয়ে লিখিত আকারে অভিযোগ করে তা বক্সে জমা দেন।  তবে অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোনো সমাধান পাননি তারা। পরবর্তীতে হল অফিসে এ বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।  সুতরাং অভিযোগ বক্সে এবং সরাসরি অভিযোগ করে বিচার পাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা জন্মেছে।

মাস্টার্সে অধ্যয়নরত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, আমি দুইবার বক্সে অভিযোগপত্র দাখিল করেও কোনো সমাধান পাইনি।  পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে সরাসরি প্রভোস্ট স্যারের হাতে অভিযোগপত্র দিয়েছি।  সেটারও কোনো সমাধান পাইনি।

হলের চতুর্থ বর্ষের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রাসেল হাওলাদার বলেন, অভিযোগ বক্সে অভিযোগ দিয়েছি।  এমনকি সরাসরি অভিযোগ করেও কোনো ফল পাইনি।  যেখানে সরাসরি অভিযোগ করইে ফল পাওয়া যায় না, সেখানে অভিযোগ বক্সে অভিযোগ করে কি হবে?

তিনি হতাশার সুরে বলেন, কিছুদিন আগে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক আবুল হোসেন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়।  এবিষয়ে প্রমাণসহ সরাসরি অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।

হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. শাকিল মিয়া বলেন, আমাকে একাধিকবার হল ছাত্রলীগ হল গেটে এবং রুমের ভেতরে মেরেছে।  এ বিষয়ে অভিযোগ বক্সে অভিযোগ দিয়ে কোনো কাজ হবে না জেনেই আমি প্রভোস্ট স্যারকে সরাসরি অভিযোগ করি।  তবে সে অভিযোগ আজও অভিযোগই আছে।  এর কোনো সমাধান হয়নি।

হলের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকী বলেন, হলে অভিযোগ বক্স যেভাবেই হোক, আছে।  এটা ভালো কথা।  কিন্তু এই অভিযোগ বক্সের মাধ্যমে কোনো অভিযোগ করলেও আদৌ কোনো সমাধান আসবে কিনা সেটা নিয়েই শিক্ষার্থীরা সন্দিহান।  ইতোপূর্বে হলে বহিরাগত বের করা নিয়ে গণশুনানির পরে অনেকেই তালিকা ও রুম নাম্বারসহ বহিরাগতদের পরিচয় হল প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছিলো।  কিন্তু বাস্তবিক কোনো সমাধান আজও দৃশ্যমান হয় নি। সুতরাং এ বিষয়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা জন্মেছে।

কিন্তু হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল সংসদের ভিপি তৌহিদুল হক শিশির এ বিষয়ে জানেন না বলে জানান।  তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি জানতাম না।  মাত্রই আমি অবগত হলাম। অভিযোগের বক্সের বিষয়ে কোনো শিক্ষার্থীও আমাকে জানায়নি।  যেহেতু এ বিষয়ে আমি এখন জানলাম, হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমি কথা বলবো যেন প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমলে নেয় ।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভুইয়া বলেন, আমাদের লোকজন মাঝে মধ্যে ঢিলেমি করে।  তবে এটা খোলা হয়। আমরা সেখানে যে অভিযোগগুলো পাই সবই উল্টোপাল্টা অভিযোগ।  দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী মজা করে এসব অভিযোগপত্র দেয়।