Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

অসামাজিক কার্যকলাপে ছেয়ে গেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

মোঃ সোহান ইসলাম

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১২:৩৯ পিএম, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

শহীদ মিনার

শহীদ মিনার

শহীদ মিনার আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৫২ সালের পর থেকে শহীদ মিনার আমাদের সব গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একমাত্র আশ্রয় ও উৎসস্থল হিসেবে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু কতৃপক্ষের অবহেলায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে হাইজ্যাকিং, ইভটিজিং, মাদক সেবন বেড়েই চলছে।

সরজমিনে শহীদ মিনার পরিদর্শনের সময় প্রাকাশ্যে গাজা সেবনের দৃশ্য চোখে পড়ে । এছাড়া শহীদ মিনারের বেদীতে স্যান্ডেল সহ, ভবঘুরে বাস্তুহারা মানুষদের শুয়ে থাকতে দেখা যায়। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম রবিন বলেন, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়েছিল। এটি একটি পবিত্র স্থান। তবে আজকাল, হাইজ্যাকিং, ইভটিজিং, মাদক সেবন, শহীদ মিনারকে অসম্মান করার মতো অনেক অসামাজিক কার্যকলাপ ক্রমাগত ঘটে চলেছে। এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক। আইনী কর্তৃপক্ষের উচিত এই অঞ্চলটি পর্যবেক্ষণ করা এবং এই ক্রিয়াকলাপগুলির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া।

লালবাগ সরকারি মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানা আক্তার বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান। মাঝে মাঝে আমি আমার মনকে সতেজ করার জন্য এখানে আসি। তবে আমি নিরাপত্তাহীন বোধ করি যেহেতু আমি দেখছি কিছু লোক মাদক গ্রহণ করছে এবং আসক্ত ব্যক্তিরা আমাকে এখানেও টিজ করেছে, সুতরাং এই খারাপ ক্রিয়াকলাপগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া খুব জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (উপাচার্য) অধ্যাপক মোঃ আক্তারুজ্জামান বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ এবং সিটি কর্পোরেশনকে দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনারটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত হওয়ায় আমরা ২১ শে ফেব্রুয়ারির মতো অনুষ্ঠানের সময় সৌন্দর্য বর্ধন করে থাকি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য চব্বিশ ঘন্টা ইউনিফর্মযুক্ত সুরক্ষা প্রহরী নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, যেহেতু শহীদ মিনারটি একটি সর্বজনীন স্থান, তাই এখানে মানুষ জড়ো হওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে কিছু খারাপ মানুষ এই সুযোগটি নিচ্ছেন এবং অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হয়ে স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশের পরিবেশ নষ্ট করছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের কে সতর্ক করেবলতে চাই, মাদক গ্রহণ, হাইজ্যাকিং, ইভটিজিংয়ের মতো কোনও ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ করার কোনও সুযোগ নেই।

যদি কাউকে এসব কাজ করতে দেখা যায়, তাত্ক্ষণিকভাবে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নূর বলেছেন, মাতৃভাষা শহীদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে এই শহীদ মিনার। এটি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের নিষ্ঠার ও ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে স্মৃতিসৌধের যত্ন না নেওয়ায় এর পরিবেশ বিরূপ প্রভাবিত হচ্ছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এবং শাহবাগ থানায় বিষয়টি অবহিত করেছি। তাদের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাই নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে তারা শহীদ মিনারের সুরক্ষার জন্য কয়েক ঘন্টা নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করতে পারে।

এই বিষয়ে, হাইকোর্ট শহীদ মিনারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য নয়টি নির্দেশনা জারি করেছেন এবং গণপূর্ত বিভাগকে ২৫ আগস্ট, ২০১০ তারিখে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে একটি সংগ্রহশালা এবং একটি গ্রন্থাগার স্থাপনের জন্য নির্দেশনা দেয়।