Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ইতিহাসের সাক্ষী- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ

সাদিয়া নাসরিন

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০৩:৫৫ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৪:১৮ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭ বুধবার

গ্রীক মেমোরিয়ালের ভেতরে স্থাপিত পাথরের ফলক

গ্রীক মেমোরিয়ালের ভেতরে স্থাপিত পাথরের ফলক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রাঙ্গণ নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে এদেশের অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন গ্রীক মেমোরিয়াল বা গ্রীক সমাধি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের চত্বরে অবস্থিত এই গ্রীক স্মৃতি সৌধটি সেইন্ট টমাস গির্জার যাজক জে এম ম্যাকডোনাল্ডের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিল।

মোঘল আমলে যখন সম্পদে, শিল্পে এবং সৌন্দর্য্যে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিল এই ‘শহর ঢাকা’ তখন এশিয়া-ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বহু মানুষ নদীতে নৌকা ভাসিয়ে এসে নামতেন এই সবুজ-কোমল পলি মাটির শহরে। ইতিহাসবিদদের মতে গ্রীকরা ঢাকায় এসেছিল ইউরোপিয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে পরে।

১৭৭০ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুই শতাধিক গ্রিক বসবাস করতেন। তারা বিশেষত কাপড়, পাট, লবণ ও চুনের ব্যবসা করতেন।ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি তারা এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু এখানকার আবহাওয়ায় গ্রীকরা বেশীদিন বাঁচতো না।

১৮৪০ সাল পর্যন্ত ঢাকায় ১২ টি গ্রিক পরিবার ছিল। তাদের একটি গির্জা ছিল বলেও জানা যায়।মুনতাসীর মামুন কর্নেল ডেভিডসন যখন ঢাকায় বইতে উল্লেখ করেছেন, কর্নেল ডেভিডসন ১৮৪০ সালে ঢাকা সফরের সময় গির্জাটি পরিদর্শন করেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনিতেই ঢাকায় গ্রিকদের গির্জাটির উল্লেখ পাওয়া যায়।

টিএসসিতে অবস্থিত হলুদ রঙের চার দেয়ালের ঘরটি আসলে একটি গ্রীক পরিবারের ৯ সদস্যদের মৃত্যু স্মৃতিকে ধরে রাখতে নির্মিত সমাধিসৌধ। আনুমানিক ১৮০০-১৮৪০ সালের মধ্যে এটি তৈরী করা হয়েছিল।বর্গাকার এবং সমতল ছাদ-যুক্ত এ স্থাপনায় প্রাচীন গ্রিসের ডরিক রীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। চার কোণের দেয়াল কিছুটা প্রক্ষিপ্ত এবং পূর্ব দিকে এক মাত্র প্রবেশদ্বারটি অবস্থিত।

ভবনটির প্রবেশদ্বারের ওপরে একটি মার্বেল ফলক, যেখানে গ্রিক ভাষায় লেখা : ‘যাদের তুমি (ঈশ্বর) বেছে নিয়েছ এবং সঙ্গে নিয়েছ, তারা ভাগ্যবান’।সৌধের দেয়ালে ৯টি কালো পাথরের লিপি রয়েছে যার ৫টিতে প্রাচীন গ্রীক ভাষা এবং বাকী ৪টিতে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

সবচেয়ে পুরনো পাথরটি সুলতানা আলেকজান্ডারের, যিনি ১৮০০ সালে মারা গিয়েছিলেন। ঘড়ির কাটার দিকদিয়ে প্রথম এপিটাফ টি সুলতানা আলেকজান্ডারের, ২য় টি থিয়োডোসিয়ার, ৩য়টি মাদালিয়েন এবং সোহিয়া জর্দানের এবং ৪র্থ এপিটাফটি নিকোলাস ডিমেট্রাস এলিস স্মরণে লেখা। এই সমাধিটি সর্বশেষ সংস্কার কারা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে গ্রীক হাই কমিশনারের অর্থায়নে।

কালের আবর্তে গ্রীকরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে দাড়িয়ে থাকা গ্রীক সমাধিসৌধটি এখনও তাদের স্মৃতি বহন করছে।