Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

কনভোসার্ট- ৫১: তৃপ্তি ও প্রশান্তি নিয়ে ফিরলো সবাই

নম্রতা অর্পা ও ফয়েজ আহমেদ

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০২:১৫ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:১৭ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার

কনভোসার্ট- ৫১: তৃপ্তি ও প্রশান্তি নিয়ে ফিরলো সবাই

কনভোসার্ট- ৫১: তৃপ্তি ও প্রশান্তি নিয়ে ফিরলো সবাই

রাজু ভাস্কর্যের সামনে সুবিশাল মঞ্চ। মঞ্চে গিটার, ড্রামস। সামনে এক্দল তরুণের কর্মব্যস্ত ছোটাছুটি। ডিইউএমসিজে টিম যখন পৌঁছায় তখন প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। একটু পরেই শুরু হবে কনভোসার্ট-৫১। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম কনভোকেশন উপলক্ষে বিশেষ কনসার্ট। এই সমাবর্তন ঘিরে কিছুদিন ধরেই ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল উদ্দীপনা। কালো হ্যাট ও কালো গাউন গায়ে সকলেই ব্যস্ত বিদায়বেলাকে স্মরণীয় করে রাখতে। সমাবর্তন প্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েটদের বিশ্ববদ্যালয় জীবন শেষ হওয়ার ক্ষণগুলোকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই কনভোসার্ট। ৫১তম সমাবর্তন প্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীদের বিদায়ে তাদের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এটাই ছিল উপহার। যার আয়োজনে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সমাবর্তন ঘিরে এমন আয়োজন এই প্রথম। ক্যাম্পাসের ব্যান্ড ইন্ট্রোইট, ক্র্যাকপ্লাটুন, আপেক্ষিক, অর্জন ও দূর্গের পাশাপাশি কনভোসার্টে পরিবেশনায় ছিল দেশের স্বনামধন্য ব্যান্ড আর্টসেল, আর্বোভইরাস ও ওয়ারফেইজ।

সমাবর্তনের সকালবেলার আনুষ্ঠানিকতার পরপরই বেলা ৩ টা থেকে শুরু হওয়ার কথা কনভোসার্ট। কিন্তু বিপত্তি বাধালো বেরসিক বৃষ্টি। বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় তখন বিকাল ৫টা। জাতীয় সংগীত ও ছাত্রলীগের শিরোনাম সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হল কনভোসার্ট ’৫১। এরপরই মঞ্চে আসে ইন্ট্রোইট। তারা পরিবেশন করে অর্থহীন ও নেমেসিসের গান। ক্রাকপ্লাটুনের সাথে সকলেই একসাথে গলা মেলায় তাদের পুরো পরিবেশনা জুড়ে। তারপরই সমাবর্তনের গাউন পরে মঞ্চে আসে ক্যাম্পাসের পরিচিত ব্যান্ড আপেক্ষিক। আর্টসেলের অন্য সময়, আর্কের সুইটি ও জেমসের কবিতা তাদের অন্যতম জনপ্রিয় কাভার। বিদায়বেলায় সবাইকে এই গানগুলোর মাধ্যমেই আরেকবার মাতায় তারা। টিএসসির পরিচিত মুখ লালন। তার মায়া মাখা কন্ঠের সাথে প্রায় সকলেই পরিচিত। সমাবর্তন গাউন পরে তিনি অ তার ব্যান্ড অর্জন কন্ঠের মায়ায় সকলকে বাঁধলেন আরও একবার।
ক্যাম্পাসের ব্যান্ডের গান চলতে থাকলেও সকলের অপেক্ষা ছিল আর্টসেলের জন্য। ঘড়িতে সময় তখন রাত ৮ টা। ততক্ষণে জমে উঠেছে কনসার্ট, বেড়েছে ভীড়। ‘আর্টসেল’ ‘আর্টসেল’ চিৎকারে কনসার্টের আশপাশ কম্পিত। এরমাঝে মঞ্চে আসে এসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেল। পথচলা, এই বিদায়, অন্য সময়, কাঁটাতার, দুঃখ বিলাস চিলে কোঠার সেপাই এই জনপ্রিয় গানগুলোর সাথে গলা মেলায় দর্শকেরা।

আর্টসেলের পরে পারফর্ম করতে আসে ক্যাম্পাসের আরেক ব্যান্ড দূর্গ। জর্জ হ্যারিসনের বাংলাদেশ, জেমসের আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ধনধান্য পুষ্পে ভরা এবং আমাদের জাতীয় সংগীতের সমন্বয়ে তারা পরিবেশন করেন বাংলাদেশ ট্রিবিউট ট্র্যাক। ধনধান্য পুষ্পে ভরা এবং আমার সোনার বাংলা গাওয়ার সময় দূর্গের ভোকালের সাথে গলা মেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।

ঘড়িতে সময় তখন রাত ১০টা। কিন্তু টিএসসি তখনো জমজমাট। অনুষ্ঠানের ধারা ভাষ্যকার আর্বোভাইরাসের নাম ঘোষণা করার সাথে সাথেই দর্শকদের মাঝে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়। মঞ্চে উঠে এসময়ের তরুণদের মাঝে বিপুল জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্বোভাইরাস। সূর্য, স্কুল, জ্বালো আগুন জ্বালো, হারিয়ে যাও- এগান গুলো দিয়ে মাতিয়ে তোলে ক্যাম্পাসকে। তাদের পরিবেশনা শেষ হয় অমানুষ গানটির মধ্যদিয়ে। তখনো অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ওয়ারফেজের পরিবেশনা বাকি।

ভক্তদের অপেক্ষার প্রহরের অবসান ঘটিয়ে রাত ১১.৩০ টায় মঞ্চে আসে বহুল প্রতীক্ষিত ব্যান্ড ওয়ারফেজ। ওয়ারফেজের গানগুলো এই প্রজন্মের সবার কাছে খুবই প্রিয়। তাই তাঁরা যখন তাদের জনপ্রিয় গান না, শুধু শুধু কান্না, পূর্ণতা, যতদূরেই থাকো ও বসে আছি একা যখন গেয়ে যাচ্ছিল তাদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে যাচ্ছিল দর্শকেরা। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংগীতের এই উৎসবের যখন ইতি ঘটে তখন রাত প্রায় ১টা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একঘেয়ে রোজকার জীবনে এই আয়োজন নিয়ে আসে কিছুটা ভিন্নতা। তাইতো অনুষ্ঠান শেষে যখন প্রাক্তন ও তাদের অনুজেরা ঘরে ফিরছিল চেহারায় ছিল প্রশান্তি আর মনে ছিল তৃপ্তি। শিক্ষার পাশাপাশি শিল্পের আয়োজন বারংবার দেখতে চায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ডিইউএমসিজেনিউজ/এনএ/এফএ