Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ডাকসুর সাহিত্য পত্রিকা নিয়ে প্রশ্ন!

পরমেশ্বর রায়

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১২:৪৬ পিএম, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার | আপডেট: ০২:৩২ পিএম, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

ডাকসুর সাহিত্য পত্রিকা

ডাকসুর সাহিত্য পত্রিকা



দীর্ঘদিন অচল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সচল হয়েই প্রকাশ করল ডাকসুর সাহিত্য পত্রিকা ‘বছর ত্রিশেক পরে’। ৩০ বছর পর প্রকাশিত হয়েছে বলে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বছর ত্রিশেক পরে’। কিন্তু প্রকাশনার পর পরই এটি ছাত্র, শিক্ষক আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমালোচনার মুখে  পড়েছে। কারণ অসংখ্য ভুলে পরিপূর্ণ সাহিত্য পত্রিকাটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকার ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী স্লোগান’ প্রবন্ধের তৃতীয় লাইনে বলা হয়েছে ‘৭৫ এর ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে’। শুধুমাত্র একটি প্রবন্ধে নয় বরং ৩৮ পৃষ্ঠার পত্রিকায় এমন শতাধিক ভুল চোখে পড়েছে।

পুরো পত্রিকাতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের লেখা এবিএম মূসা’র ‘মুজিব ভাই’ প্রবন্ধ ও কয়েকটি কবিতা ছাড়া অন্য সব লেখনীতে বানান ভুল, বাক্য গঠনে সমস্যা, যতি চিহ্নের যথেচ্ছ ব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটেছে।

পত্রিকার দ্বিতীয় পৃষ্ঠায়ই দুইজন সহ-সম্পাদকের নামের বানানে ভুল করা হয়েছে। সম্পাদকীয়তেও রয়েছে বেশ কয়েকটি ভুল। এই অংশে লেখা হয়, ‘ত্রিশ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য চর্চার কেমন পরিবর্তিত হয়েছে।’ অথচ সেখানে লেখা উচিত ছিলো; ‘ত্রিশ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য চর্চার কেমন পরিবর্তন হয়েছে’ অথবা ‘ত্রিশ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য চর্চা কেমন পরিবর্তিত হয়েছে- এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণের লেখা ‘কবির সতর্কবাণী’ কবিতায় ‘পড়েছি’ শব্দকে লেখা হয়েছে ‘পরিছি’। জাহিদ হাসানের লেখা ‘মৃত্যুকাব্য’ গল্পে ভুল রয়েছে বিশেরও অধিক। এসব ভুলের মধ্যে রয়েছে- অস্পস্ট, আগুন খুন আতঙ্ক, কারন, তকন, বায়না করেছিলো, পৌরষত্ব, হইছে, ছেলেপক্ষরা, পৌছে, মুহুর্তের, খুজতে, চেচামেচি, ঝাপড়া, অন্ত:স্বত্তা ইত্যাদি। সঠিক শব্দগুলো হলো যথাক্রমে- অস্পষ্ট, ‘আগুন, খুন, আতঙ্ক’, কারণ, তখন, বায়না ধরেছিলো, পুরুষত্ব, হয়েছে, ছেলেপক্ষ, পৌঁছে, মুহূর্তের, খুঁজতে, চেঁচামেচি, ঝাপসা, অন্তঃসত্তা।


কবিতার ক্ষেত্রেও অনেক ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে কবিতার মান নিয়েও।
 কিষাণ সাহার লেখা কবিতা ‘বিনীতার জন্য’ কবিতায় ‘গাঁথা’ শব্দকে লেখা হয়েছে ‘গাথাঁ’ হিসেবে। ফখরুল ইসলাম কল্পের ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ কবিতায় ‘মেয়ের’ শব্দকে লেখা হয়েছে মেযের, ‘কেটে’ শব্দকে লেখা হয়েছে কেঁটে, ‘মুহূর্ত’ কে লেখা হয়েছে মুহুর্ত। জীগল মন্ডলের লেখা ‘শুনছো জুবুর আব্বু’ চিঠিতে চিঠি প্রেরকের নাম প্রথমে দেয়া হয়েছে ‘কাস্তুরী’। পরবর্তীতে এ নামকে বানিয়ে ফেলা হয়েছে ‘কান্তরী’। এমন অসংখ্য ভুলে জর্জরিত এ সাহিত্য পত্রিকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের  চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম হাসান বলেন, অনেকদিন পর ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা বের করল, এটা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তাই বলে এ ধরণের ভুল কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না।  এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আরো সতর্ক হওয়া জরুরি।

 ভিপি নুরুল হক বলেন,   ডাকসুর সাহিত্য পত্রিকায় এ ধরণের  ভুল অনাকাঙ্ক্ষিত।এর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান জড়িত। পত্রিকা প্রকাশের জন্য পরিকল্পনা দরকার ছিল, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কমিটি করা উচিত ছিল। কিন্তু এ ধরণের কিছুই করা হয় নি।

পত্রিকায় এমন ভুলের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, এরকম ভুল কেন হবে। সম্পাদকের তো উচিত ছিল ভুল দেখা এবং অন্যদের সহায়তা নেয়া। 

এ বিষয়ে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, বেশ কয়েক জায়গায় ভুল ছিল। এটি সম্পাদনার ত্রুটি। পরবর্তীতে আমরা আরো সতর্ক হব। এমন ভুল যাতে আর না হয় সেদিকে নজর দেয়া হবে।