Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ডিইউএমসিজের ৫৭ বছর: র‌্যালি, আলোচনাসভায় উদযাপন

মাজহারুল ইসলাম রবিন ও আলী আযম

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১২:৪৬ পিএম, ২ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার | আপডেট: ০২:৩২ পিএম, ২ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার

ডিইউএমসিজের ৫৭ বছর: র‌্যালি, আলোচনাসভায় উদযাপন

ডিইউএমসিজের ৫৭ বছর: র‌্যালি, আলোচনাসভায় উদযাপন

ন্যায়বিচারের জন্য সাংবাদিকতা’ এই প্রতিপাদ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৫৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) এ উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৯৬২ সালের ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। ২ আগস্ট শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় একদিন আগেই এ বছর বিভাগ দিবস উদযাপন করা হলো।

সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে থেকে র‌্যালির মাধ্যমে উদযাপন শুরু হয়। র‌্যালিটি সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও মধুর ক্যান্টিন এলাকা হয়ে লেকচার থিয়েটারের সামনে শেষ হয়।

এরপর লেকচার থিয়েটারের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে বিভাগ দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেটি শুরু হয় সকাল ১১টায়।

বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। অনুষ্ঠানে ‘সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য সাংবাদিকতা’ শীর্ষক বিভাগ দিবস বক্তৃতা দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক শবনম আযীম।

বিশেষ এ বক্তৃতায় মনজুরুল ইসলাম বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যে চারটি স্তম্ভ রয়েছে তা প্রতিষ্ঠা করতে সংবাদপত্রের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের অভাব দেখা যাচ্ছে।

 

সামাজিক ন্যায়বিচারের কোনো সংজ্ঞা নেই। বিভিন্ন সময়ে একেকজন একেক রকম করে সংজ্ঞা তৈরি করে কাজ করে এমন মত দিয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকদের চেয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা অনেক সাহসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা বেশি আশাব্যঞ্জক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপকারিতা ও অপকারিতা তুলে ধরে এসময় এর অপব্যবহারে রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

মিডিয়া ব্যবহার করে সমাজের অনেক সমস্যা সমাধান করা যায় বলে উল্লেখ করে সৈয়দ মনজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমের মন্দ দিক ঝেড়ে ফেলে ভালো দিক নিলে এই ধারার মাধ্যম হতে পারে নাগরিক সাংবাদিকতা বড় প্রকাশ।

‘সর্বক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অথচ শিশুদের সাথেও আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছি না। তাই সামাজিক ন্যায়বিচার সমাজের মৌলিক পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে। একজন মানুষেরও যৌক্তিক অধিকারের কথা নিয়ে মিডিয়াকে ভাবতে হবে, বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদের সমাজে চরম অস্থিরতার একটি পর্ব চলছে। সহনশীলতার চরম ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য গণমাধ্যমকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মানব কল্যাণ ও সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে হবে। অস্থিরতা, অসহনশীলতা এবং অন্যের প্রতি অশ্রদ্ধাবোধকে সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সুচিন্তা ও স্থিরতা অবলম্বনের মাধ্যমে সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সততা, সত্যতা, সমতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মী ও তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ‘বর্তমানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নীতি নৈতিকতা না মেনে একজনের বিরুদ্ধে সংবাদ করে ফেলছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারও তো বক্তব্য থাকতে পারে। সেটি না নিয়ে তারা হলুদ সাংবাদিকতা করেন।’ এসময় তিনি এ বিষয়টি শিক্ষার্থীদের গুরুত্বের সঙ্গে বোঝানোর জন্য সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকদের প্রতি এ আহ্বান জানান।

দেশের গণমাধ্যমগুলো কর্পোরেট সাংবাদিকতার দিকে ঝুঁকছে মন্তব্য করে অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্যই সাংবাদিকতা আর ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজন দায়বদ্ধতা। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সাংবাদিকদের লেগে থাকতে হবে। শুধু ঘটনা প্রকাশ নয়, ঘটনার গভীর থেকে তথ্য তুলে এনে মানুষকে সত্য জানাতে হবে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের জন্য দায়বদ্ধতা সাংবাদিকতা শাস্ত্রের শিক্ষা। সামাজিক ন্যায়বিচার, প্রবলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কিংবা নিপীড়িতের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্যই সাংবাদিকতা।

অনুষ্ঠানে বিভাগের দুই কৃতি শিক্ষার্থীকে ২০১৮ সালে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করায় মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। বৃত্তিপ্রাপ্তরা হলেন- মেহজাবীন বশীর তুলি এবং এস এম শামস রহমান।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা শান্তি, সম্প্রীতির জয় কামনায় বিশেষ সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

ডিইউএমসিজেনিউজ/রবিন/আযম