Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ডিজিটাল বাংলাদেশে এনালগ ঢাবি প্রশাসন

মাজহারুল ইসলাম রবিন

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০১:০৮ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার | আপডেট: ০৪:৫৭ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

ঢাবি রেজিস্টার ভবন- ছবি: রবিন

ঢাবি রেজিস্টার ভবন- ছবি: রবিন

আধুনিক ও ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছুটছে বাংলাদেশ।  প্রযুক্তির ব্যবহারে নানাক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে।  প্রশাসনিক, দাপ্তরিক, সাংগঠনিকসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ডিজিটাল এ প্রযুক্তি। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের বিশাল সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেটি ব্যবহৃত হচ্ছে না দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখনও মান্ধাতার আমলের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।  সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলসহ চার দফা দাবির একটি দাবি ছিলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমটিই শুধু অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।  কিন্তু ভর্তির মূল কাজ শিক্ষার্থীদের করতে হয় নিজ হাতেই।  ভর্তি, পুনঃভর্তি, পরীক্ষার ফরম ও প্রবেশপত্র সংগ্রহ, কোর্স ও সেমিস্টার ফি জমা, মানোন্নয়ন, বৃত্তির কাজ, সার্টিফিকেট উত্তোলনসহ শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে বিশাল ফরম পূরণ করে যাবতীয় কাজ করতে হয়।  ফরম পূরণ করার পর সেটি নিয়ে তাদের দৌড়াতে বিভিন্ন স্থানে। এক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্ট অফিস থেকে রেজিস্ট্রার ভবন, সেখান থেকে হল অফিস, হল অফিস থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে আবারো ডিপার্টমেন্ট অফিসের দিকে দৌড়াতে হয় শিক্ষার্থীদের।  এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় নানা ভোগান্তিতে।  শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলেই প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার চালু করতে পারে।  এতে ঘরে বসেই শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে পারবে।

এছাড়া রেজিস্ট্রার ভবনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক কাজের ধীরগতির ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।  একাডেমিক কার্যক্রম সংক্রান্ত কোনো তথ্যের জন্য রেজিস্ট্রার ভবনে শিক্ষার্থীরা গেলেও দৌড়াতে হয় এক কক্ষ থেকে অন্যকক্ষে।  এ সকল বিষয়কে শিক্ষার্থীদের উপর ‘প্রশাসনিক অত্যাচার’ বলে মনে করেন অনেকে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা:
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন রাজু বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় এসেছে সবগুলো প্রক্রিয়াকে অনলাইনভিত্তিক করার। ছোটখাটো কাজেও বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ানোর থেকে অব্যহতি দিতে পারে এই সুবিধাটি।  আমাদের ভর্তি ফরম বা ব্যাংকে টাকা দেয়ার রশিদ একই কথাগুলো তিন-চারবার করে লিখতে হয়।  কিছু ভুল হলে আবার লিখা, তারপর লম্বা সিরিয়াল তো আছেই। এই ব্যাপারগুলোকে ‘ডিজিটালাইজড’ করা এখন সময়ের দাবি।’

কামারুল ইসলাম রাশেদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে এসেও দেশের সেরা বিদ্যাপীঠের মতো জায়াগায় এই এনালগ সিস্টেম মেনে নেওয়া যায় না।  এখনও সেই মান্ধাতার আমলের সিস্টেমেই পড়ে আছে।  আর রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে গেলে সেখানকার কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ব্যবহার করেন তা খুবই দুঃখজনক।’

ডাকসুর বক্তব্য:
ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি।  প্রশাসনকে ছাত্রদের অসুবিধার কথাগুলো জানিয়েছি।  বেতন ও ফি প্রদান, পরীক্ষার ফলাফল দেখা ইত্যাদি অনলাইন ভিত্তিক করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আলোকে ইতোমধ্যে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  অটোমেশনের এসব কর্মসূচি এখন চলমান রয়েছে।’

প্রশাসনের বক্তব্য:
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট আন্তরিক।  সেদিকে প্রশাসনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।  তবে পরীক্ষা প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসনে সবার আগে জরুরি কন্ট্রোলার সিস্টেমের ডিজিটালাইজেশন।  অন্যদিকে বিভিন্ন বিষয়ে হল, বিভাগ, প্রশাসনিক ভবন অথবা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক- এসব জায়গায় স্বাক্ষর ছাড়া তো কোনোকিছু অনুমোদনও পাবে না।  তবে ধীরে ধীরে এসব বিষয়েও সমাধান হবে বলে আশা করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ধীরে ধীরে সবকিছুই করা হবে।  রেজিস্ট্রার ভবনের কার্যক্রম ডিজিটালাইজ করার বিষয়ে কাজ চলছে।  এটার উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে আমরা কাজ করছি।’