Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

কে এস এম সায়েম

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০৩:৩৬ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৩:০৭ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ বুধবার

কার্জন হলের সৌন্দর্য

কার্জন হলের সৌন্দর্য

১৯২১ সালে প্রতিষ্টিত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। মোট ২৭৫.০৮৩ একর জমির উপর গড়ে উঠা এই প্রতিষ্টানটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

ঢাকা শহরের মানুষেরা যখন গ্রীষ্মের অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ হয়ে যায় তখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বয় প্রাণ জুড়ানো শীতল বাতাস। হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণের এই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখার দিক দিয়ে যেমন শ্রেষ্ঠ তেমনি ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিচারেও অতুলনীয়। ঢাবি ক্যাম্পাস সত্যিই যেন এক নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের আধার। আর এর মূলে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য বৃক্ষ, পুকুর, ফুলের বাগান এবং পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন হয়ে থাকার মত সুউচ্চ বহু দালান। রাজধানী শহরের কেন্দ্রে থেকেও ঢাবি ক্যাম্পাসে যে পরিমাণ গাছপালা আছে তা সত্যিই বিস্ময়ের ব্যাপার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য দর্শনের জন্য কার্জন হল এলাকা একটি উপযুক্ত জায়গা। অবকাঠামোগত কিংবা প্রাকৃতিক কোন দিক থেকেই এই এলাকার তুলনা  হয়না। কার্জন হল এলাকার পুকুর পাড়, লাল বিল্ডিং তথা পুরো এলাকার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে সবারই জানা। কার্জন হলেই রয়েছে উদ্ভিদ বিজ্ঞান উদ্যান ও ভেষজ বিজ্ঞান উদ্যান। ভেষজ বিজ্ঞান উদ্যানে গেলে কালোমেঘ, মহাভূঙ্গরাজ, সবুজ গোলাপ ইত্যাদি বিলুপ্তপ্রায় দেশি বেদেশি উদ্ভিদের দেখা মেলবে।

অন্যদিকে যে শাপলা ফুল কিংবা কচুরিপানার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার জন্য ঢাকাবাসীরা আয়োজন করে ঢাকার বাইরে অনেক দূরের কোন গ্রামে চলে যায় উদ্ভিদ বিজ্ঞান উদ্যানে গেলেই তারা সেই শাপলা ফুল ও কচুরিপানার অভূতপূর্ব সৌন্দর্যে নিজেদের মুগ্ধ করার সুযোগ পাবে।  

তবে সবকিছু জানার পরেও একটি বিষয় অনেকের অজানা থেকে যায়। তা হল প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসের সাক্ষী প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের এই কার্জন হল এলাকাতেই ঢাবির সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বৃক্ষটির অবস্থান। গাছটির নাম মেহগনি। বয়স ৮১ বছর। অসংখ্য ইতিহাসের সাক্ষী এই গাছটি। একাশি বছরের পুরনো এই মেহগনি গাছ দেশ বিভাগ, ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষী হয়ে এখনো মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। আর আমাদের অনেক ইতিহাসের নিরব সাক্ষী এই মেহগনি গাছটির অবস্থান পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সামনে। তবে হতাশার কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাকালীন সময়ের কোন গাছের অস্তিত্ব এখন ক্যাম্পাসে নেই। যদি থাকত তবে ঢাবির সাথে পাল্লা দিয়ে সেই বৃক্ষের বয়সও এখন একশ ছুঁই ছুঁই হত।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত আসা-যাওয়া করার পরেও অনেকের চোখে ক্যাম্পাসের অসংখ্য রকমের ফুল গাছ এবং এসব গাছে ফোটে থাকা নানান রকমের ফুলের সৌন্দর্য নাও পড়তে পারে।  কেননা প্রতিনিয়ত একই স্থান দিয়ে চলাচল করলে সেই স্থানের প্রতি মানুষের আকষর্ণ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। তবে হঠাৎ করে কিংবা অনেকদিন পর যদি কেউ প্রিয় ক্যাম্পাসে ঘুরতে যায় তাহলে নিশ্চিতভাবেই সে বিভিন্ন স্থানে ফোটে থাকা হরেক রঙ্গের ফুলের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হবে। আর ফাল্গুনে যদি কোন আগুন্তক ভুল করে ঢাবি’র ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে তাহলে কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্যে তিনি মাতাল হতে বাধ্য।

হাকিম চত্বর থেকে শুরু করে কলাভবনের সামনে, শ্যাডোর পাশে, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের পাশে, উপাচার্যের ভবনের সামনে, রেজিস্টার ভবনের সামনে সবখানেই থাকে কৃষ্ণচূড়া ফুলের সমারো। ফাল্গুন আসার সাথে সাথে কৃষচূড়া গাছগুলো ক্যাম্প্যাসের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। ক্যাম্পাসের ছোট রাস্তায় পড়ে থাকা কৃষ্ণচূড়ার পাতাগুলো দেখে মনে হয় যেন শিক্ষার্থীদের পরম ভালবাসায় অভ্যর্থনা জানাচ্ছে কৃষ্ণচূড়ার তারা।

শুধু কৃষ্ণচূড়া নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোতাহার ভবন এবং ফার্মেসি বিভাগের সামনে দাঁড়ালে নজরকাড়া নাম না জানা নানান ফুলের সৌন্দর্যে নিমিষেই মন উজার হয়ে যাবে যে কারো। অসম্ভব সুন্দর হলুদ রঙের সোনালু ফুলের দিকে তাকালে যে ফুল ভালবাসেনা সেও কয়েক মুহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাবে এই ফুলের মায়াময় সৌন্দর্যে, মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকবে এই অপরূপ ফুলের দিকে। কৃষ্ণচূড়া সোনালু ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসলে যে কেউ দেখতে পারবে জারুল, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম ,কাঠগোলাপ, মধুমালতি, স্বর্ণচাপা ইত্যাদি নজরকাড়া ফুলের অপরূপ সমাহার।

তবে দুঃখের বিষয় প্রকৃতির এত কাছাকাছি থাকার পরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাসের অনেক গাছ এবং ফুলের নাম তো জানেই না, জানার প্রয়োজনও মনে করেনা। এ বিষয়ে ঢাবির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ডক্টর মোঃ আবুল হাসানের সাথে আলাপচারিতায় তিনি জানান, বর্তমানে আমাদের অনেক শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাসে রয়েছে যারা অনেক ফুলের নাম ই জানেনা। তাছাড়া গাছপালা সম্পর্কেও তাদের ধারণা কম।

ঢাকার ভিতরে যদি কেউ ঘুরতে যেতে চান, প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চান তাহলে অনায়াসে ঘুরে যেতে পারেন হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে এক কাপ চা খেয়ে ঢাবি’র মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলে যে কারো মনে নিশ্চিত প্রশান্তি নেমে আসবে।