Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘বৃহন্নলা’র পরিচ্ছন্নতা অভিযান

মো: মিরাজ হোসেন

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০১:১২ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

র‌্যালীতে বৃহন্নলা। ছবি: মিরাজ

র‌্যালীতে বৃহন্নলা। ছবি: মিরাজ

একীভূত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে ওঠা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বৃহন্নলা’। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি (১ অক্টোবর) তারা আয়োজন করেছে এক দিন ব্যাপী ব্যতিক্রমধর্মী একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান, যেখানে অংশগ্রহণ করেন ঢাকা শহরের প্রায় ১০০ জনেরও অধিক তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর সদস্য ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পেইনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ছাড়াও আয়োজন করা হয় একটি সচেতনতামূলক র‍্যালী এবং প্রদর্শন করা হয় ‘উদবাস্তু আরণ্যক’ শিরোনামে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার তৃতীয় লিঙ্গ তথা হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে একটি দেয়াল পত্রিকার।

সমাজের মূলস্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হিজড়া জনগোষ্ঠী সদস্যদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে সাহায্য চেয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। কিন্তু তাদের এ আয়োজনে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে। শিক্ষার্থীদের সাথে একতাবদ্ধ হয়ে সবাই মিলে একসাথে পরিষ্কার করে টিএসসির আশেপাশের রাস্তার প্লাস্টিক-আবর্জনা। দেশ ও পরিবেশের স্বার্থে তারাও যে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারে সেই বার্তাপ্রদানের উদ্দেশ্যেই যেন এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন। এমনটিই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ হাসান। তিনি আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে হিজড়া জনগোষ্ঠীর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।

সাগরিকা হিজড়া বলেন, “সমাজের নিগ্রহের শিকার হয়ে আমরা মানুষের করুণারপাত্র হতে বাধ্য হয়েছি। আমরা প্রত্যেকে বঞ্চনার স্বীকার হয়ে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন, যা আমাদের ভাগ্যের পরিহাস, যা আমরা না চাইতেই পেয়েছি। সমাজের সকলের আমাদের প্রতি সুনজর ও সহানুভূতিই পারে আমাদের বেঁচে থাকাকে সহজ করতে। আর এ জন্য চাই কর্মক্ষেত্রে আমাদের স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। হিজড়াশিশুদের প্রতি মানুষের সহানুভূতি বাড়ানো উচিত, কারণ তাদেরও বাঁচার অধিকার রয়েছে।”

বৃহন্নলা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাদিকুল ইসলাম বলেন, “বৃহন্নলা ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিকে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তাদের প্রতি আমাদের আজন্ম ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বৈষম্যের চর্চায় পরিবর্তন আনতে হবে। পৃথিবীতে দুটি সংকট বিরাজমান, একটি পরিবেশ অন্যটি মানবতা। তাই আমাদের আজকের প্রতিপাদ্য ‘চেঞ্জ হ্যাবিট, সেইভ লাইফ’। কিন্তু তা একদিনে পরিবর্তন করে ফেলা যাবেনা। এজন্যেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত করছি। আর আমরা মনে করি, তরুণ সমাজ চাইলে যেকোনো সংকটের সমাধান অতি দ্রুতই করা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন একটু সদ্বিচ্ছার। মূলধারায় হিজরা জনগোষ্ঠীকে সংযুক্ত করতে আমরা আমদের কার্যক্রম অব্যহত রাখবো, আমরা আশা করছি হিজরা জনগোষ্ঠীর অধিকারের পক্ষে অনেকেই এগিয়ে আসবে।”

অনুষ্ঠানের শেষাংশে মনোরম সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয় যেখানে হিজরা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বৃহন্নলা’র মূল লক্ষ্য হিজরা জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা। এ সংগঠনের বর্তমান সদস্যসংখ্যা প্রায় ৫০ জন এবং সুবিধাভোগী হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ১০০ জন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ‘বৃহন্নলা’ তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।