Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবিতে বিদ্রোহী কবির ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

তন্ময় সাহা জয়

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০৫:৫৪ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ১১:০৫ এএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার

ঢাবিতে বিদ্রোহী কবির ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ঢাবিতে বিদ্রোহী কবির ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২৭ আগস্ট (সোমবার) পালিত হল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী। সর্বস্তরের মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে কবিকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের (মসজিদুল জামিয়া) পাশে কবির সমাধি ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নেয়া হয় নানা কর্মসূচি।
দিনের শুরুতেই ফজরের নামাযের পর মসজিদুল জামিয়া`য় কোরানখানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে কবির সমাধিতে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কবির মাজারে ফুল দেয়া হয়।পরে মসজিদের খতিব দোয়া পরিচালনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। এছাড়াও বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলির পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, “বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের মৃত্যুদিনে আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। বৃটিশ আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলনে বিপ্লবী মানুষের কণ্ঠস্বর ছিলেন তিনি। তাঁর শ্যামা সংগীত, গজল , বিদ্রোহী গান সবই আমাদের যুগ-যুগান্তরে বহন করে নিয়ে যেতে হবে। আমরা যারা রক্ত দিয়ে, শ্রম দিয়ে দেশ অর্জন করেছি, সেই দেশে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা বহন করে নিয়ে যেতে চাই।”

এরপর কবির সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপ-উপাচার্যের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, ড. এ এস এম মাকসুদ কামালসহ অন্যান্যরা। আলোচনার পাশাপাশি নজরুলের নানা গান গেয়ে শোনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নজরুল গবেষণা ট্রাস্ট্রের সভাপতি ও বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, "নজরুল রচনাবলী বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। নজরুলকে ভালবাসি, তাই কাজ করি। আমি যতক্ষণ আছি, চেষ্টা করব যাতে নজরুলকে সামগ্রিকভাবে, সুষ্ঠুভাবে তুলে ধরা হয়।"

তিনি তার আলোচনায় স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে কবিকে ফিরিয়ে আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করাসহ নানা বিষয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, অনেক গর্বভরে কবিকে এই প্রাঙ্গণে শায়িত করা হয়েছিল, কবির সমাধি ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছিল মনোরম পরিবেশ। কিন্তু এখন এগুলো ঠিকমতো দেখভাল করা হয় না।

এজন্য পর্যাপ্ত, দক্ষ মানুষকে নিয়ে এই স্থানটির রক্ষণাবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন তিনি।

কবি নজরুলের মৃত্যুদিবসে সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সদস্য ও সর্বস্তরের মানুষ ।
বাংলা ১৩৮৩ সনের ১২ ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের।

ডিইউএমসিজে/২৭ আগস্ট