Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবিতে যাত্রা শুরু করলো “ডিইউ চক্কর”

আরাফাত-আল-ইয়াসিন

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১২:২৮ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

ক্যাম্পাস শ্যাডোর জোবাইক স্ট্যান্ড। ছবিঃ আরাফাত-আল-ইয়াসিন

ক্যাম্পাস শ্যাডোর জোবাইক স্ট্যান্ড। ছবিঃ আরাফাত-আল-ইয়াসিন

অনেক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চালু হলো জোবাইকের সার্ভিস “ডিইউ চক্কর”। ‘কার্বনমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস’ স্লোগান সামনে রেখে গত ১৬ অক্টোবর টিএসসির পায়রা চত্বরে এই এপভিত্তিক বাইসাইকেল সেবার উদ্বোধন করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান।

ডাকসুর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ০৭ অক্টোবর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু বাইসাইকেল নিয়ে এই সার্ভিস চালু হলে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ১৬ অক্টোবর উদ্বোধনের পর থেকে ক্যাম্পাস জুড়ে দেখা মিলছে জোবাইকের।    

ডিউ চক্কর চালু হওয়ায় এর নানান সুবিধা পাচ্ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আরউইন আহমেদ জানায়, জোবাইক খুবই ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে আবাসিক হলের মেয়েদের জন্য অনেক উপকারী হবে।

শিক্ষা এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সাজেদুল ইসলাম শাকিল বলেন, এটি খুব ভাল একটা উদ্যোগ। ক্যাম্পাসের যেকোনো যায়গায় খুব সহজে চলাচল করা যায়। রিকশা ভাড়ার টাকা বেঁচে যায়৷

তবে কার্যক্রম শুরুর কিছুদিনের মাথায় জোবাইক নিয়ে শোনা যাচ্ছে নানান নেতিবাচক ঘটনা। বিশেষ করে সাইক্লিং শেখার জন্য অনেকেই জোবাইক ব্যবহার করছেন। ফলে বেশ কিছু সাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। অনেকেই নির্ধারিত স্ট্যান্ডে সাইকেল না রেখে যত্রতত্র সাইকেল রেখে চলে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ সাঈদ হোসাইন জানায়, জোবাইকের সার্ভিস শুরুর আগে এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হবে তা নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রচারণার প্রয়োজনীয়তা ছিল। যথাযথভাবে প্রচারণা করা হলে জোবাইক নিয়ে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যেত।  

তাছাড়া উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজের শিক্ষার্থী ফাইরুজ হায়দার বলেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বাইসাইকেল না থাকায় সহজে এই সার্ভিস নিতে পারছেনা অনেকেই।

ছেলে-মেয়ে উভয়ের ব্যবহার উপযোগী হিসেবে তৈরি জোবাইকের স্মার্ট সাইকেলের সাথে আছে অত্যাধুনিক লক, সোলার প্যানেল, জিপিএস ইত্যাদি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতীত কেউ জোবাইক ব্যবহার করতে পারবে না। জোবাইক ঢাবি ক্যাম্পাসের পূর্বে কার্জন হল, পশ্চিমে কুয়েত মৈত্রী হল, উত্তরে পাবলিক লাইব্রেরি এবং দক্ষিণে এসএম হল পর্যন্ত সেবা দিবে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন জোবাইক  

যেকোন ঢাবি শিক্ষার্থীকে জোবাইক সেবা ব্যবহার করার পূর্বে যথাযথভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন এর জন্য ঢাবির পরিচয়পত্র নিয়ে কলাভবনের পাশে ক্যাম্পাস শ্যাডোতে নির্দিষ্ট কাউন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবার পর প্রথমদিন ন্যূণতম একশো টাকা রিচার্জ করতে হবে।

জোবাইকের প্রতিটি বাইসাইকেল প্রাথমিকভাবে বন্ধ অবস্থায় থাকবে।  বন্ধ সাইকেল খুলতে দরকার হবে একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। অ্যাপটি গুগল প্লেস্টোর থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। এরপর তাতে অ্যাকাউন্ট খুলে, সাইকেলের সাথে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে সাইকেলটি ব্যবহার করা যাবে।

অ্যাপের মাধ্যমে সাইকেলের লক খোলার সাথে শুরু হবে সময় গণনা। রাইড শেষ করতে গন্তব্যে পৌছানোর পর নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে ব্যবহারকারীকে অ্যাপের মাধ্যমে পুনরায় সাইকেলটি লক করতে হবে।  

ব্যবহারকারীকে রাইড সেবা নেওয়ার প্রথম পাঁচ মিনিটে দুই টাকা পঞ্চাশ পয়সা চার্জ করা হবে। প্রথম পাঁচ মিনিট অতিক্রান্ত হবার পর প্রতি মিনিট মাত্র ৪০ পয়সা ব্যয়ে জোবাইক সেবা নিতে পারবেন ঢাবির ব্যবহারকারীরা।     

রাইডের মূল্য পরিশোধ করতে নির্দিষ্ট “ডিইউ চক্কর” স্ট্যান্ডের কাছে একটি রিচার্জ পয়েন্ট থাকবে। আপাতত শুধুমাত্র ক্যাম্পাস শ্যাডোতে মিলবে রিচার্জ পয়েন্ট। পরবর্তীতে বিভিন্ন আবাসিক হল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রিচার্জ পয়েন্ট বসানোর কথা রয়েছে। তাছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে এই ভাড়া পরিশোধে বিকাশ ও অন্যান্য পেমেন্ট সিস্টেম সংযোজন করার সম্ভাবনা রয়েছে।