Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবি’র ইতিহাসের সাক্ষী‘ গুরুদুয়ারা নানক শাহী’

মোঃ চুন্নু খান

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০৪:১৩ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৫:৩৪ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭ বুধবার

গুরুদুয়ারা নানকশাহী

গুরুদুয়ারা নানকশাহী

ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ ঐতিহ্য গুলোর মধ্য এখনও স্বমহিমায় টিকে আছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত শিখ ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় গুরুদুয়ারা নানকশাহী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে অদ্যাবধি অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকা এই উপাসনালয়টি কবে নির্মিত হয়েছে ত াসঠিক ভাবে জানা গেলেও ইতিহাসবিদদের ধারণা প্রায় চারশত কিংবা তারও আগে ১৬০৬ থেকে ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে এটি নির্মিত হয়েছে। তখন বাংলার শাসনভারের দায়িত্বে ছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীর।

এ সময় ষষ্ঠ শিখ গুরু হর গোবিন্দ সিং পূর্ব বাংলায় শিখধর্ম প্রচারের উদ্যোগ নেন। তার প্রচেষ্টায় গুরু দুয়ার ানানক শাহী উপাসনালয়টি গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর ১৮৮৩ সালের দিকে এটি কে সংস্কার করা হয়।
জানা যায় ১৮৪৭ সালের পর থেকে প্রায় ষাট অব্দ এটি আবারও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে এ উপাসনালয়টি কে পুনরায় সংস্কার করে বর্তমান রূপদান করাহয়।

গুরু দুয়ারাটি পূর্বমুখী করে বর্গাকার ভিত্তির উপর স্থাপিত। উত্তর -পশ্চিম ও পূর্ব দিকের দেয়ালে পাঁচটি প্রবেশদ্বার আছে। কেন্দ্রীয় কক্ষের চারদিকে রয়েছে রয়েছে পাঁ চ ফুট প্রশস্ত বারান্দা। বারান্দার প্রতিটি কোণে রয়েছে একটি করে মোট চারটি কক্ষ। বারান্দার পরে রয়েছে তিনটি করে খিলান বিশিষ্ট প্রবেশপথ।

৭ নভেম্বর ২০১১ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর স্ত্রী শরণ কাউর বাংলাদেশ সফরে এসে এখানে একটি অফিস কক্ষ ও বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য অতিথি কক্ষের উদ্বোধন করেন।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ এখানে স্থাপন করেছে শিখ রিসার্চ সেন্টার। উপাসনালয়টি দেখাশোনার জন্য ভারতের পাঞ্জাব প্রদশ থেকে আসা নারায়ণ রবি দাস পাপ্পু জানান, ‘বর্তমানে গুরু দুয়ারার মূল গেটের উপর কিছু ছোট ছোট গম্বুজ স্থাপন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উপাসনালয় টির আর ও কিছু জায়গায় আমরা সংস্কার করব।’
ঐতিহ্যবাহী এই স্থানটির রক্ষণাবেক্ষণের ও সংস্কারের ব্যয় ভার এখনও এখানে আসা দর্শনার্থীদের দানের টাকাতেই করতে হচ্ছে।