Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তীব্র আসন সংকট

তাহমিনা আক্তার

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০১:০২ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী। (ছবিঃ তাহমিনা আক্তার)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী। (ছবিঃ তাহমিনা আক্তার)

 

 

 

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে তীব্র আসন সংকটে ভুগছে শিক্ষার্থীরা। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠটিতে উত্তরোত্তর বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছে না লাইব্রেবির আসন সংখ্যা। কাটছে না ছিট-সংকট। ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে তাদের পড়াশুনার জন্য লাইব্রেরি রয়েছে মাত্র একটি। যার আসন সংখ্যা মাত্র ৬৬০টি।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এর রয়েছে এক সুদীর্ঘ, সুবিশাল আর গৌরবময় ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের এক বিরাট অংশ ধরে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। জ্ঞান পিপাসু শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে এ গ্রন্থাগারটি। সকাল থেকে রাত অবধি খোলা থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব বই স্থান পেয়েছে লাইব্রেরীটিতে।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এ লাইব্রেরীতে রয়েছে এখনও তীব্র আসন সংকট। বারবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানালেও নেয়া হচ্ছে না প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।  লাইব্রেরীতে ঢুকতে দিনের শুরুতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। কোনো কোনো সময় এ লাইন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ পেরিয়ে মধুর কেন্টিন পর্যন্ত পার হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের যেমন একদিকে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পাঠ চুকানোর তাগাদা, ভালো রেজাল্ট করার আকাঙ্খা। তেমনি রয়েছে চাকরির বাজারে নিজেকে টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ।

প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্তে হাজারো শিক্ষার্থীদের ভিড় ও তাদের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই গ্রন্থাগার। বর্তমানে এখানে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ বই, সাড়ে ৪১ হাজারেরও বেশি  সাময়িকী ও জার্নাল রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৩টি অনুষদের আওতাভুক্ত ৭০টি বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি। চলমান প্রক্রিয়ায় উত্তরোত্তর বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে তুলনায় অবকাঠামো বৃদ্ধি পায়নি।

গ্রন্থাগারটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। সংস্কৃত বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুঁই বলেন, “লাইব্রেরীতে সিট ধরার জন্য ৭টার আগেই এসে লাইনে দাঁড়াতে হয়, যেখানে লাইব্রেরী খোলা হয় ৮টায়। শিক্ষার্থীর তুলনায় লাইব্রেরীতে সিটসংখ্যা অপ্রতুল না হলে আমাকে এতো আগে আসতে হতো না। প্রশাসনের উচিত লাইব্রেরির আসন সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া”।

 

 

বইয়ের পাশাপাশি ১৪-১৫ শতকের দুষ্প্রাপ্য পান্ডুলিপি আছে এ লাইব্রেরিতে। পান্ডুলিপিগুলো আধুনিক স্ক্যানার দিয়ে ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ৩০ হাজার দুষ্প্রাপ্য পান্ডুলিপির ডিজিটাইজেশন করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির অবকাঠামো সম্প্রসারণ না হলেও অনলাইন রিসোর্স বেড়েছে। লাইব্রেরিয়ান জানিয়েছেন, বর্তমানে সদস্যরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং যেকোন স্থান থেকে অনলাইনে বই ও সাময়িকী পড়তে পারেন। তিনি জানান, ছাপানো জার্নালের চেয়ে অনলাইন জার্নাল বেশি কেনা হচ্ছে।

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতেও ডিজিটালের ছোঁয়া লেগেছে। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ডিজিটাল গেইট তৈরি করা করা হয়েছে। গ্রন্থাগারে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এর আগে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের ভুয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরী ব্যবহার করতো চাকরির পড়ালেখার জন্য। এতে বহিরাগতরাই ঢাবি ছাত্রদের কাতারে মিশে যেত যা সনাক্ত করা কঠিন ছিল। প্রয়োজনীয় বই নিয়ে একাডেমিক পড়ালেখার জন্য ঢাবির ছাত্ররাই আসন পেতনা। এখন থেকে ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে শুধু ঢাবির ছাত্ররাই লাইব্রেরীর সুবিধা পাবে।

এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার আধুনিক, যুগোপযোগী, মানসম্মত, ডিজিটাল ও ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর চাহিদা পূরণে সক্ষম কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি কমপ্লেক্স করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশানুরূপ কোন তৎপরতা এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছে, প্রশাসন অবিলম্বে লাইব্রেরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এর ফলে চলমান আসন সংকট থেকে মুক্তি পাবে শিক্ষার্থীরা।