Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় বেড়েছে পাসের হার: ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও ‘চ’ ইউনিটে

সাইফুল ইসলাম

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০২:১১ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় বেড়েছে পাসের হার: ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও ‘চ’ ইউনিটে

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় বেড়েছে পাসের হার: ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও ‘চ’ ইউনিটে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণীর বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে গত বছরের তুলনায় পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘খ’, ‘গ’, ‘চ’ ইউনিটের পর সর্বশেষ প্রকাশিত ‘ক’ ইউনিটের ফলাফলেও এই উর্ধ্বমুখী পাসের হার বজায় আছে। চলতি সপ্তাহেই প্রকাশিত হবে ‘ঘ’ ইউনিটের ফলাফল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় এবারই প্রথমবারের মতো নৈর্ব্যক্তিকের পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষাও হয়। লিখিত অংশ নতুন করে যুক্ত হওয়ায় এবার ফলাফল প্রকাশেও অধিক সময় নিয়েছে প্রশাসন। ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ শুরু হয় ২৬ সেপ্টেম্বর ‘গ’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত এই ইউনিটে এবার পাসের হার ১৫.৪৯ শতাংশ। সর্বমোট ১২৫০টি আসনের বিপরীতে এবছর পরীক্ষা দিয়েছে ২৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। নৈর্ব্যক্তিক অংশে উত্তীর্ণ ৬,৮০২ জনেরই কেবল লিখিত অংশ দেখা হয়, যাদের মাঝে ৪ হাজার ৩৬২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। একই ইউনিটে ২০১৮-১৯ সালের ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল মাত্র ১০.৯৮ শতাংশ। প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও গতবার পাস করে মাত্র ২৮৫০ জন।

১৩ অক্টোবর প্রকাশিত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায়ও তুলনামূলকভাবে বেড়েছে পাসের হার। কলা অনুষদভুক্ত এই ইউনিটে এবার পাসের হার ২৩.৭২ শতাংশ যা গতবছরের (১৪ শতাংশ) তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। ২,৩৭৮টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় এবার। লিখিত ও নৈর্ব্যক্তিকে সমন্বিতভাবে ১০ হাজার ১৮৮ জন উত্তীর্ণ হয়। গতবছর একই সংখ্যক আসনের বিপরীতে ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং মাত্র ৪,৭৪৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়।

পাসের হার বেড়েছে ‘চ’ ইউনিটেও। গতবছরে ১৯.৪৫ শতাংশের বিপরীতে এ বছর পাস করেছে ২৮.৫৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। ১৩৫টি আসনের জন্য ১,২০২ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ৩৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়।

এদিকে ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ফলাফল স্থগিত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফল প্রকাশের পর তাতে একটি বিষয়ের এমসিকিউ অংশে কারিগরি ত্রুটিজনিত ভুল ধরা পড়ার পর সেদিন রাতেই ফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও ছিল একটি ছোট ভুল যে কারণে পরীক্ষার্থীদের খানিকটা সময় অপচয় হয়। এ বিষয়ে পরীক্ষা শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক পরীক্ষার্থী। এ ভুলের খেসারত হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ৩ নম্বর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভর্তি পরীক্ষা সমন্বয়ক কমিটি। ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করার কথা জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। জানতে চাইলে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয় প্রশাসনিক ভবনস্থ কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেন। সংশোধিত ফলাফলে ৮৫ হাজার ৮৭৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ১৫.৯৩ ভাগ। ‘ক’ ইউনিটের মোট আসন সংখ্যা ১,৭৫০টি। গতবছর একই সংখ্যক আসনের জন্য ৭৭ হাজার ৫৭২ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিল। এর মাঝে ১০ হাজার ১১৭ জন্য উত্তীর্ণ হয়। পাসের হার ছিল ১৩.০৪ শতাংশ।