Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবির শামসুন্নাহার হলে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার

সাদিয়া আক্তার

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১২:১৬ পিএম, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে আয়োজিত হয় স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার। ছবি: সাদিয়া আক্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে আয়োজিত হয় স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার। ছবি: সাদিয়া আক্তার

 

‘সচেতন হই সচেতন করি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের হলগুলোতে দুইদিন ব্যাপী স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ও করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হিমু পরিবহন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(ডাকসু)`র আয়োজনে ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগিতায় এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

২৫ অক্টোবর সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই আয়োজনেরউদ্বোধন হয়। র‍্যালিটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, মধুর ক্যান্টিন, মল চত্বর ঘুরে টিএসসিতে এসে শেষ হয়। পরে বিকেলে শামসুন্নাহার হল টিভিরুমে এ বিষয়কসেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউমার ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. শামসুন নাহার। তিনি শিক্ষার্থীদের স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ, কারণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শামসুন্নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সুপ্রিয়া সাহা।

আলোচনা সভায় ডা. শামসুন নাহার বলেন, বিআরসিএ-১ ও ২ নামের জিনের অস্বাভাবিক মিউটেশন স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী। আবার কারও মা, খালা, বড় বোন বা মেয়ের স্তন ক্যান্সার থাকলেও ঝুঁকি বেশি থাকে। তাছাড়া যাদের বারো বছরের আগে ঋতুস্রাব হয় এবং পঞ্চাশ বছরের পরে মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ হয়, তারাও ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া মদ্যপান এবং অতিরিক্ত ওজনেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। তিনি আরও বলেন, স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরণে নারীরা নিজেই বড় পরীক্ষক। প্রতিবার ঋতুস্রাবের ৩ থেকে ৪ দিন পর নারীরা নিজ স্তন পরীক্ষা করে এ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। কোনো সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কিছু সচেতনতার মাধ্যমে এর ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানান ডা. শামসুন্নাহার। যেমন ৩০ বছরের আগেই বিয়ে ও প্রথম সন্তান ধারণ করা, পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া, অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাদ্য ও ফাস্টফুড কম খাওয়া, পরিমিত আহার ও হালকা ব্যায়াম এর মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো ইত্যাদি।।

প্রতি বছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস উদযাপন করা হয়।তবে পুরো মাস জুড়েই চলে সচেতনতা বিষয়ক কার্যক্রম। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, সারা বিশ্বে স্তন ক্যান্সারে নারী মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি এর সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২ হাজার ৭৬৪ জন নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৮৪৬ জন মারা যান। উন্নত বিশ্বে অধিকাংশ নারী যেখানে ৫০ বছরের কাছাকাছি বয়সে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, বাংলাদেশে সেখানে ৪০ শতাংশেরও বেশি নারী ৫০ বছর বয়সে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

অনিয়মিত, দীর্ঘস্থায়ী বা নির্দিষ্ট সময়ের আগে মাসিক হলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া এমন অনেক কিশোরী আছে যাদের ১৩-১৪ বছরের মধ্যে মাসিক হওয়ার কথা থাকলেও দেখা যায় ১০ বছরেই মাসিক হয়ে যায়। তাদেরও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া অবিবাহিত ও নিঃসন্তান নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। কারণ তারা সন্তানকে কখনো স্তন পান করাননি। বংশগত কারণেও অনেক নারীর স্তনক্যান্সার হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা বাঁচিয়ে তুলতে পারে রোগীকে, দিতে পারে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন। ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, লজ্জা ও সচেতনতার অভাবে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ক সচেতনতা নিজেদের গ্রামসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন হল প্রভোস্ট ড. সুপ্রিয়া সাহা।পরে সেমিনার শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা হয়। এসময় নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা সংক্রান্ত প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে শিক্ষার্থীরা।