Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবি’র ৫১তম সমাবর্তন, দেশ গড়তে তরুণদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্ববান

মো: রনি ইসলাম

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০৫:০৫ পিএম, ৮ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০২:১৬ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার

ঢাবি’র ৫১তম সমাবর্তন, দেশ গড়তে তরুণদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্ববান

ঢাবি’র ৫১তম সমাবর্তন, দেশ গড়তে তরুণদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্ববান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মোট দুই হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে সম্পন্ন হলো ৫১তম সমাবর্তন।

শনিবার (৬অক্টোবর) বেলা এগারো টায় শুরু হয় এ সমাবর্তনের মূল পর্ব। এতে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশ গড়তে তরুণদেরকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে।

অতীতেও এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের সকল আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এমনটা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশ গড়ার দায়িত্ব অনেকাংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ছিলো। এই বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চ্যান্সেলর আরো বলেন, `গ্রাজুয়েটরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নানা ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। তাই দেশের দ্রুত উন্নয়ণে তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি।’ এসময় অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপুর্ণ বিভাগগুলোকে যথাসম্ভব নতুন করে ঢেলে সাজারনোরও পরামর্শ দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যালেঞ্জ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, `বিশ্বমানের মানব সম্পদ তৈরির নতুন চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী এবং আত্মনিয়োগ প্রভৃতি বিষয়ে অশংগ্রহণ করা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ চলমান রাজনীতিতে সকলের অবাধ প্রবেশের বিষয়ে রসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, রাজনীতি এখন গরিবের ভাউজ। গ্রামের ভাষায় ভাউজ হচ্ছে ভাবি। গরিবের বউ হচ্ছে সবার ভাবি। এখন রাজনীতিও তেমন। যে কেউ চাইলেই রাজনীতিতে আসতে পারছে। কিন্তু অন্য পেশায় কেউ চাইলেই যেতে পারে না।

প্রকৌশলী, চিকিৎসক, সরকারি চাকুরে... জজ সাহেবও অবসরের পর সরসরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন, আর্মির জেনারেল হওয়া সেনাপ্রধান হওয়া, সরকারি সচিব, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, কেবিনেট সেক্রেটারি অবসরে গেলেই ঘোষণা দিচ্ছেন ‘আমি রাজনীতি করবো।’ কোন বিধি-বিধান নাই। যার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা তখনই রাজনীতি ঢুকে পড়ছেন, বলেন রাষ্ট্রপতি।

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে ঢাবি চ্যান্সেলর বলেন, “ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আশার আলো দেখছি। ছাত্র সমাজের বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই। যখন তফসিল হয়, দেখা যাবে অনেক ক্যালকুলেশন হবে। ভেজাল সৃষ্টি করে দিতে পারে। অনেকে অনেক স্বার্থে করতে পারে। কিন্তু সমস্ত ছেলেমেয়েদের বঞ্চিত করা উচিত হবে না। এ ব্যাপারে তৎপর থাকতে হবে। যাতে কোনোভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। যারা ব্যক্তি বা অন্য স্বার্থ দেখতে চায় এদেরকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি আরো বলেন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ডাকসু ইলেকশন হয়ে যায় দেখা যাবে, দেশের সব সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়ে যাবে। কলেজগুলোতেও ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়ে যাবে। তাহলে রাজনীতিতে ওই ঢুকে পড়া, ওই প্রক্রিয়াটি বাধাপ্রাপ্ত হবে।

তবে ডাকসু নির্বাচনকে ফলপ্রসু করতে রাষ্ট্রপতি ছাত্রদের লক্ষ করে বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির শিক্ষা নেওয়ার উপর জোর দিতে হবে কারণ এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার মান সমুন্নত রাখার ওপরও জোর দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ডিপ্লোমা ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্বাভাবিক লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে কি না তা ভাবতে হবে। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের বৃহৎ স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা ভেবে দেখবেন। তিনি আরো বলেন, জনগণের অর্থেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। তাই তাদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।`

এছাড়াও রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি, বিশ্বপ্রেক্ষাপটে শিক্ষা, রাজনীতিসহ বহু বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

এ সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখরুজ্জমান, প্রো- উপাচার্য (শিক্ষা)অধ্যাপক নাসরিন আহমাদ।

এ সমাবর্তনে কৃতী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৬টি স্বর্ণ পদক, ৮১জনকে পিএইচডি ও ২৭ জনকে এম ফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়।

ডিইউএমসিজেনিউজ/আরআই