Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবি ক্যাম্পাসে উদ্বাস্তু উৎপাত, বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা

টিপু/ইসিয়াম/সাদিয়া/ফারহানা/রাজু

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০২:২২ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০১৯ সোমবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের টিএসসির একটি যাত্রী ছাউনির বেঞ্চে ঘুমিয়ে একজন উদ্বাস্তু, ছবি: সাদিয়া আক্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের টিএসসির একটি যাত্রী ছাউনির বেঞ্চে ঘুমিয়ে একজন উদ্বাস্তু, ছবি: সাদিয়া আক্তার

রোববার বিকাল ৪টা ১০ মিনিট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের প্রধান ফটক। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে আছেন। কথা বলে জানা গেল, তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু পাশেই একটি যাত্রী ছাউনি। তবু কেন যাত্রী ছাউনিতে বসছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, ইচ্ছে থাকলেও বসতে পারি না। ছাউনিগুলো অধিকাংশ সময়ই থাকে উদ্বাস্তুদের দখলে। তাছাড়া এগুলো এত নোংরা যে বসার উপযোগী নয়।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় উদ্বাস্তুদের অবস্থান। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদেরও রয়েছে নানা অভিযোগ। তবে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা বললেও তার কোনো বাস্তবায়ন চোখে পড়ে না।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বেড়ে চলেছে উদ্বাস্তুদের উপস্থিতি। ভিক্ষুক ছাড়াও হকার, পথশিশু, টোকাই, বৃহন্নলা, যৌনকর্মী, মানসিক রোগীসহ উদ্বাস্তুতে ছেয়ে গেছে পুরো ক্যাম্পাস।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গায় এসব উদ্বাস্তু মানুষ অবাধে বিচরণ করে বেড়াচ্ছে। চার বছরের শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী ছিন্নমূল মানুষই চোখে পড়ে। ক্যাম্পাসের টিএসসি থেকে কার্জন হল , ডাচ চত্বর, হাকিম চত্বর, মিলন চত্বর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বটতলা, ক্যাম্পাস স্যাডো, মল চত্বর, ভিসি চত্বর, ফুলার রোড, সবুজ চত্বরসহ সব জায়গায়ই এদের বিচরণ। এদের যন্ত্রণায় নানা বিড়ম্বনার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এসব মানুষ যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে ক্যাম্পাসের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। বিশেষ করে টিএসসির মোড় থেকে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে দোয়েল চত্বর এবং দোয়েল চত্বর থেকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশ দিয়ে শহীদুল্লাহ হলের গেট পর্যন্ত পুরো এলাকায় যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করে এরা।

তবে টিএসসি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ও বটতলায় এদের বিচরণ বেশি। শিক্ষার্থীদের গ্রুপস্টাডি, গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, বন্ধুদের মধ্যে আড্ডার সময়গুলোতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিব্রত অবস্থায় ফেলে তারা। এতে একদিকে যেমন ক্যাম্পাস তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে অন্যদিকে ভিক্ষুকদের আনাগোনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।