Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবি ক্যাম্পাসে ময়লার স্তুপঃ বিপাকে শিক্ষার্থীরা

সিনথিয়া আক্তার

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১১:৪৯ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

রাজু ভাস্কর্যের সামনে ময়লার ভাগাড়, ছবি: মিরাজ

রাজু ভাস্কর্যের সামনে ময়লার ভাগাড়, ছবি: মিরাজ

দিন দিন ময়লার ভাগাড়ে পরিনত হচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আবর্জনার স্তুপ ও মল-মূত্রের কারণে বিপাকে পরছেন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে দেখা গেছে যে, ক্যাম্পাসের টিএসসি, মল চত্ত্বর, ভিসি চত্ত্বর, শহীদ মিনার, কার্জন হলসহ বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনার স্তুপ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মল-মূত্রের কারণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এতে করে চলাচলের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এবং বেশিরভাগ সময়ই ডাস্টবিন গুলো পরিষ্কার করা হয়না যার ফলস্বরুপ ময়লা-আবর্জনা ডাস্টবিন ভরে আশেপাশে উপচে পরে। এবং দীর্ঘদিন ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করার ফলে এক দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এতে করে রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়।

এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ভাসমান দোকান এবং রিকশাওয়ালাদের দ্বারাও নোংরা হচ্ছে ক্যাম্পাস। তারা তাদের উচ্ছিষ্ট জিনিস এখানে-সেখানে ফেলে রাখেন। এতে করে নোংরা হচ্ছে পরিবেশ।

ক্যাম্পাসের এই অবস্থা সম্পর্কে সুফিয়া কামাল হলের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইন্দিরা বিশ্বাস বলেন “ হল থেকে কলাভবন ক্লাস করার জন্য বাংলা একাডেমীর রাস্তা ব্যবহার করি। কিন্তু যেই পরিমাণ আবর্জনা এবং দুর্গন্ধ এতে করে চলাচলে অনেক কষ্ট হয়। এছাড়া ভাসমান মানুষেরা মল-মূত্র ত্যাগ করে পুরো রাস্তা ভরে রাখে, এতে করে বেশিরভাগ সময় অস্বস্তিকর অবস্থায় পরতে হয়”।

আই ই আর এর মাস্টার্সের শিক্ষার্থী প্লাবন আহমেদ বলেন যে, “ ভিসি চত্ত্বরে দুয়েকটা ডাস্টবিন রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এবং সেগুলো ঠিকমতো পরিষ্কারও করা হয়না। অনেকসময় দেখা যায় ডাস্টবিন ভরে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখানে সেখানে ময়লা ফেলেন”।

ক্যাম্পাসের যত্রত্ত্র ময়লা ফেলার জন্য একটু বৃষ্টিতেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। কারণ বিভিন্ন রকমের ময়লা ড্রেনেজ সিস্টেম আটকে রাখে।

গত ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ‘ক্লিন ক্যাম্পাস উইক’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবুও এ সমস্যা থেকে উত্তরণ পাওয়া যাচ্ছে না।

এছাড়া ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল বিডি ক্লিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাঁরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সচেতনতার কাজ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা ভাগ করে নিয়ে এর আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করেন। কয়েকদিন পরপর পুরো ক্যাম্পাসের ময়লা পরিষ্কার করেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। তবুও কয়েকদিন না ঘুরতেই আগের রুপে ফিরে আসে চিত্র।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন জানান, “বিষয়টি আসলেই স্পর্শকাতর। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। সমস্যা সমাধানের জন্যে আমরা প্রদক্ষেপ নিয়েছি। ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত টেকসই ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করব।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা বিষয়টি দেখছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এ দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন পালন করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় তার বিভিন্ন আবাসিক হল ও অনুষদ থেকে উৎপাদিত বর্জ্য পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনকে সহায়তা করে।

ফুটপাতে মলমূত্র ত্যাগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী ও বহিরাগতরা একাজ করে থাকে। বিভিন্ন সময় পদক্ষেপ নেয়া হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন কাজ।