Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবি রিসোর্স সেন্টার, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের আশার আলো

রবিন, রিতু ও আলী আজম

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১২:৫৪ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার

ঢাবি রিসোর্স সেন্টার, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের আশার আলো

ঢাবি রিসোর্স সেন্টার, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের আশার আলো

আব্দুর রহিম। জন্ম থেকে দু’চোখে আলো নেই। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে প্রতিবন্ধীতাকে উচ্চশিক্ষার পথে বাঁধা হতে দেননি। ভর্তি পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল করে জায়গা করে নেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগে। তবে তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। চোখে না দেখায় স্বাভাবিক কাজকর্মে সমস্যা হতো। রহিমদের মত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের উচ্চশিক্ষার পথকে সহজ করতে কাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিসোর্স সেন্টার।

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে সেবা নিতে আসেন প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। এ সেন্টারটি যেন তাদের জন্য ‘আশার আলো’। হাজারও প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রতিবছর প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অন্যান্যদের তুলনায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সমস্যা একটু বেশি। তাই তাদেরকে আলাদা করে পৃষ্ঠপোষকতা করার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ১৬ আগস্ট এনজিও প্রতিষ্ঠান ‘সাইট সেভারস ইন্টারন্যাশনাল’ (বিশ্বব্যাপী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে) এর সহায়তায় প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিসোর্স সেন্টার’। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় অবস্থিত এ সেন্টারটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পড়াশোনা, একাডেমিক কাজ, গবেষণাসহ সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সরেজমিনে সেখানে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

অন্যদের মতো বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র আব্দুর রহিমও নিয়মিত আসেন এই রিসোর্স সেন্টারটিতে। যেকোন অসুবিধায় পান সহযোগিতা। তিনি বলেন, ‘শুক্র ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহে পাঁচদিন এবং সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রটি আমাদের জন্য খোলা থাকে। আমি বন্ধুদের (দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী) সাথে এখানে আসি। এখানে যারা কাজ করেন তারা বেশ আন্তরিক। যেকোন সমস্যা হলে সমাধান পাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারি গ্রন্থাগারিক মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন খান নিজেও একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী জানান রিসোর্স সেন্টারের সেবার পরিসরের কথা। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন এতো সব সুবিধা ছিলো না। অনেক সমস্যা হতো। এখনকার চিত্র অবশ্য ভিন্ন। তাদেরকে প্রতিষ্ঠানিকভাবে সেবা দেওয়া হচ্ছে। পড়াশোনা ও বিভাগীয় অন্যান্য কাজ করার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রিসোর্স সেন্টারে আসেন। মজার ব্যাপার হলো এখানে যারা কাজ করেন (চারজন) তারাও দৃষ্টিহীন। এজন্য শিক্ষার্থীদের সমস্যা তারা আরও ভালো বুঝতে পারেন।’

তিনি জানান, ‘এখানে সকল শিক্ষা ও গবেষণা উপকরণ ব্রেইল সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে বিভিন্ন বিভাগের ২৩টি বই, ২৭ লাইন ব্রেইল গাইড, ২টি ব্রেইল টাইপরাইটার মেশিন, ব্রেইল লেখনী (লেখার জন্য কলম) এবং ক্যাসেট ও সিডির কালেকশন আছে।’

তিনি আরও জানান, ‘শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার জন্য এখানে আছে ‘জাউস টকিং’, বা ‘টেক্সট টু স্পিচ’ সিস্টেম, তিনটি ডিজিটাল কম্পিউটার, স্ক্যানার মেশিন, ব্রেইল প্রিন্টার, প্লেক্সটক সিডি, টেপ রেকর্ডার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম। এগুলো ব্যবহার করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সর্বোচ্চ কর্মক্ষম করে তোলার চেষ্টা করে রিসোর্স সেন্টার।’

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ড. এস এম জাবেদ আহমদের সাথে কথা হয় এই বিষয়ে। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে রিসোর্স সেন্টারে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। শুরুর দিকে ক্ষদ্র পরিসরে সেবা দেওয়া হতো। তবে ‘সাইট সেভারস ইন্টারন্যাশনাল’ এনজিও প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সাথে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তাদের সুযোগ-সুবিধা বেড়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উপযোগী করতে আমরা কাজ করছি।’