Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম গণরুম: স্বপ্নের অপমৃত্যু

ফজলে রাব্বি ও সোহেল রানা

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০২:১৩ পিএম, ৫ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ১০:৪২ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম গণরুম: স্বপ্নের অপমৃত্যু

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম গণরুম: স্বপ্নের অপমৃত্যু

রুমের সামনে আবর্জনার স্তূপ । ভিতরে সারি সারি ট্রাঙ্ক । মেঝেতে পাতা  অগোছালো বিছানা । তোষক গুলো তোষক কিনা দেখে আদৌ বোঝার উপায় নেই । একনজর দেখার পর চিন্তাই করতে পারবেন না যে, এখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের ছাত্ররা ঘুমায় । কতটুকু অসহায় হলে “মাথা গোজার ঠাঁই” হিসেবে এমন জায়গা বেছে নিতে হয় !    

নাম তার বঙ্গভবন । রাষ্ট্রপতির বাসভবন মনে করে ভুল করবেন না । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের গণরুমের ছাত্ররাই এ নাম দিয়েছে ।  হয়তো এখান থেকেই কেউ একজন একদিন বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতি হবেন । এমন স্বপ্ন থেকেই এ নামকরণ ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমের পরিবেশ  সম্পর্কে যারা জানেন তারা হয়তো ধারণা করবেন গণরুমে ২৫-৪০ জন থাকে। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন একরুমে ৩০০ জন ছাত্র থাকার কথা? মেঘনা ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত এই কক্ষটি ছিল হলের ছাত্রদের খেলার জন্য ।  কক্ষটির আয়তন ও বড় । এজন্য ছাত্ররা মজা করে একে “দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম গণরুম” দাবী করে ।


২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অসাম্প্রদায়িক হল “বিজয় একাত্তর” । ২০১৫ সালে যখন সিট বরাদ্দ দেয়া হয় তখন অন্য হল গুলো থেকে প্রায় পাঁচশ জন ছাত্রকে আনা হয় বিজয় একাত্তর হলে । কিন্তু কপালের নাম গোপাল। এখন এ হলের ছাত্ররাই থাকার জায়গা পাচ্ছেন না ।  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০১৫-১৬ সেশনে ছাত্রদের এই হলে সংযুক্তি প্রদানের সময় ফাঁকা ছিল না হলের কোন সিট।

প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এই হলে ৪০০-৫০০ জনকে সংযুক্তি প্রদান করা হয়। কিন্তু প্রতিবছর এর এক তৃতীয়াংশও হল ছেড়ে যায় না। যার ফলে নতুন ছাত্রদের হল থেকে সিট প্রদান করাও সম্ভব হয় না ।
প্রথম বর্ষের ছাত্রদের হল থেকে কোন সিট বরাদ্দ দেওয়া হয় না । তারা অনাবাসিক হিসেবেই হলে থাকে । কিন্তু বেশিরভাগ ছাত্রই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের । যার ফলে তারা বাইরে থাকার খরচ বহন করতে অক্ষম। বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে হলের ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় ।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র জানিয়েছে,তাঁর কয়েক জোড়া জুতো হারানো গিয়েছে । শুধু জুতা নয় চলতে ফিরতে মোবাইল ফোনের সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় এমন অনেক কিছু প্রায়ই নিখোঁজ হয়  । আরেক ছাত্র জানায়, ইচ্ছা আছে বাইরে থাকার; এখানে থাকতে  ইচ্ছে করে না । পড়াশোনার কোন পরিবেশ নাই। ঘুমোতে হয় রাত তিনটা-চারটায় । এজন্য অনেক সময় ক্লাস মিস করতে হয় ।

ছাত্রদের ব্যবহারের জন্য আলাদা কোন ওয়াশরুম নেই। তারা পদ্মা ও যমুনা ভবনের তৃতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করে থাকে ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্নে অনেকেই বিভোর থাকে । ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে মনে হয় যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেল। কিন্তু গণরুমের বৈরী পরিবেশ তাদের স্বপ্নগুলোতে পচন ধরায়। অনেকেই ঝরে পড়ে , হয়ে উঠে বাউন্ডুলে , ফলাফল খারাপ হতে থাকে । এত কষ্টের পর ব্যার্থতার সকল  দায় নিজেদেরই বহন করতে হয় ।  বিশ্ববিদ্যালয় যেন কেবলই সাক্ষী গোপাল।   

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম/তসাজ