Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ধূসর ঢাকায় এক টুকরো সবুজ আঙ্গিনা

মো. শামিম হোসেন

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০৭:২০ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৭:৪৪ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

ধূসর ঢাকায় এক টুকরো সবুজ আঙ্গিনা

ধূসর ঢাকায় এক টুকরো সবুজ আঙ্গিনা

আম, কাঠাঁল, নারকেল, পেয়ারা, জাম্বুরা, কামরাঙা সহ নানান ফল-ফুল, ঔষধি আর বনজ গাছ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেন আবহমান গ্রাম-বাংলারই প্রতিচ্ছবি।

প্রায় এক হাজার প্রজাতির দেশি-বিদেশি গাছের সমারোহে এ বিশ্ববিদ্যালয় যেন রাজধানী ঢাকার ধূসর পরিবেশের মাঝে জেগে ওঠা এক সবুজের নগরী। কর্মক্লান্ত সপ্তাহের শেষ দিনটিতে নগরীর মানুষের শান্তিতে নিঃশ্বাস নেয়ার জায়গা। যদিও বাগানের সৌন্দর্যরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যথাযথ তত্ত্বাবধানের অভাব রয়েছে ও এ খাতে বাজেটের পরিমাণ খুবই সীমিত।

এখানে নানান ফল-ফুল আর সৌন্দর্যবোধক গাছের সাথে রয়েছে দুশোর অধিক প্রজাতির ঔষধি গাছ। ফার্মাসি অনুষদের ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের রয়েছে কেবল ঔষধি গাছেরই আলাদা বাগান। এছাড়াও প্রত্যেক হলের বাগান, চত্বর ও আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানান ভেষজ গাছ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগান দেখাশুনার জন্য প্রায় ১৬০ জন মালি রয়েছে। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে মোট ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের প্রায় ০.২৬ শতাংশ। এ বরাদ্দ থেকেও আবার ৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে রাখা হয়। উল্লেখ্য, বর্তমান অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট বাজেটের পরিমাণ ৬৬৪ কোটি টাকা ৩৭ লাখ টাকা।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগান রক্ষণাবেক্ষণের বাজেট খুব সীমিত। এত অল্প বাজেটে গাছ পরিচর্যার উন্নত উপকরণ কেনা যায় না ও প্রয়োজনীয় সারও সংগ্রহ করা যায় না। এ খাতে বাজেট আরো বাড়াতে হবে।

বৃক্ষায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির সদস্য সচিব ড. বিমল গুহ জানায়, প্রতি বছর জুন মাসে ক্যাম্পাসে পালন করা হয় বৃক্ষরোপন কর্মসূচি। খালি জায়গার অভাবে গত দু বছর মাত্র ১০০ করে গাছের চারা লাগানো হয়েছে। এর আগে প্রতি বছর ১ হাজারের অধিক করে গাছ লাগানো হত।

এছাড়া প্রতি জুন মাসে বর্ষার শুরুতেই লাগানো হয় নানা জাতের ফুল গাছের চারা। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতে ফোটে নানা জাতের ফুল। গ্রীষ্মকালে ফোটে গরমপিনিয়া, পিটুনিয়া, হটলিলি, বেলি, পচ্চলিকা, লিলি, গন্ধরাজ ইত্যাদি ফুল।

বর্ষাকালে জুঁই, রঙ্গন, চামেলি, ডুবাটিয়া আর কদমে হেসে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন। বেশিরভাগ ফুলই ফোটে শীতকালে। এ সময় ডালিয়া, গোলাপ, জিনিয়া, ডান্টেসল্যান্ড, বর্মিনিয়া, ফলক্্স, গান্ধা, চন্দনমল্লিকা, করুনডলার, আস্টার ও মোরগ উল্লেখ্যযোগ্য।

এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বকুল, শিউলী, কামিনি, কাঁঠালিচাম্পা, রক্তজবা, বাসক, টগর, ঝরনা, লটকন, পলাশ, নাগেশ্বর, মনিপেলান, পঞ্চমুখী, কৃশম্স্টার, পানচাপিয়া, বয়রা, সেহেরি, হাসনাহেনা, রঙ্গন, গোলছুন ইত্যাদি গাছের সমারোহ। প্রতি হল ও ভবনের সামনে সারি সারি দেবদারু যেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় আরো দ্বিগুণ।

এছাড়া রয়েছে নানার জাতের অসংখ্য ফলের গাছ। এর মধ্য আম, কাঠাঁল, কদবেল, পেয়ারা, চালতা, জাম্বুরা, করমচা, বড়ই, আমড়া, খেজুর, ডালিম,জামরুল, সফেদা, সুপারি, কামরাঙা, আতাফল, পেঁপেঁ ইত্যাদি ফলের গাছ রয়েছে। সংখ্যার হিসেবে প্রায় ৫০০ টি আমগাছ, ৬৫০ টি কাঠাঁল গাছ, ১ হাজারেরও অধিক নারকেল গাছ ও অন্যান্য গাছের সংখ্যাও পর্যাপ্ত পরিমাণে।

বনজ গাছের মধ্য কড়ই, শিলকড়ই, শিশু, পাম, কাঠাঁলচাপা, পাম, শাল, সেগুন, বাবলা, রাবার, তাল, কাঠবাদাম, গাব, দেউরা, ইউক্যালিপটাস, সিরীষ, চাম্বল ইত্যাদি অসংখ্য গাছ নিয়ে সবুজে বেষ্টিত পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্য প্রায় ৪৫০ টি পামগাছ, ৩৫০ সিরীষ গাছ ও সেগুন রয়েছে ৩০০ এরও বেশি।

সচরাচর ঔষধি গাছের মধ্য নিম, মেহগনি, হরিতকি, আমলকি, বহেড়া, অর্জুন, অশোক, ঘৃতকুমারী, তেজপাতা, বাসক, বোতলব্রাশ, মেন্দা, মেহেদী, হোন্দা, সাজনা, হাড়ভাঙ্গা, হেলেঞ্চা ইত্যাদি পাওয়া যায়। প্রায় সব হল ও অনুষদের আনাচে-কানাচেই এসব ভেষজ গাছ পাওয়া যায়। এর মধ্য প্রায় ৩ হাজার মেহগনি, ৫০০ নিম, হরিতকি, অর্জুন ও আমলকি দুশোরও অধিক পরিমাণে রয়েছে।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ভেষজ উদ্ভিদ সংরক্ষণ কেন্দ্রে রয়েছে ১০০ টিরও অধিক প্রজাতির ভেষজ গাছ। এর মধ্য অপরাজিতা, অড়হড়, অনন্তলতা, অশ্বগন্ধা, আকন্দ, ইফ্রিড্রা, এভোকাডো, এলাচ, করমচা, কল্কাসুন্দে, কারিপাতা, কাসাভা, কুমারিলতা, কুরচি, জগৎমর্দন, দাদ মর্দন, পিপুল, পুদিনা, পূনর্ণভা, বড় চাদর, বড় দুধিয়া, বাওবাব, বিলিম্বি, ব্রাম্মী, ভূঁই আমলা, মাহভৃঙ্গরাজ, লংকা জবা, শতমূলী গাছগুলো সচরাচর আমাদের দেশে পাওয়া যায় না।

এছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০০ প্রজাতির গাছ। এর মধ্য উল্লেখ্যযোগ্য হল নাগডুম, বুটি, পলাশ, এনজান, বাহবা, আগর, আলুবখরা, বাহবা, ধূলিচাপা, টেন্ডুপাতা, তেলসুর, ধুতরা, কালোমেঘ, রিঠা, মাস্তা, কফি, চা, গ্যাটরোপা, ডেউয়া ইত্যাদি। এখানের আটমুরা নামের একটি ফুল ফোটার সময় কমলা রংয়ের হয়, এরপর লাল আবার তা কালো রং ধারণ করে।

ফার্মাসি বিভাগের প্লান্টে রয়েছে নয়নতারা, হরিতকি, জলপাই, অর্জুন, সর্পগান্ধা, পুডিনা, কেয়া, কামিনি, পাথরকুচি, হলদেকরচি, কর্পুর, মেহেদি, হাড়ভাঙ্গা লতা, রক্তকবরী, আরাল, ভেরেন্ডা, বেল, ছাউলমগরা, উলটকম্বল, শিউলী, কামরাঙা, বহেরা ইত্যাদি ভেষজ গাছ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক হলেই প্রায় তিনশ প্রজাতির গাছ রয়েছে। জহুরুল হক, জগন্নাথ ও এস এম হলে সবচেয়ে বেশি অংশের বাগান রয়েছে। জগন্নাথ হলের মালি শংকর গোয়ালা জানায়, এ হলে প্রায়  সাড়ে তিনশো জাতের গাছ রয়েছে। এর মধ্য সবচেয়ে বেশি হল প্রায় ২০০ টি নারকেল, ১০০ টি সুপারি, ৬০ টি আম, ২০ টি কাঁঠাল গাছ সহ অসংখ্য অন্যান্য গাছ। তিনি আরো জানায়, এ হলের জন্য যে ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয় তাতে বছরে একবার সারও কিনতে পারা যায় না।

এছাড়া প্রত্যেক হল ঘুরে দেখা যায়, আম-কাঠাঁল , নারিকেল, লিচু, কামরাঙায় ঘেরা হলগুলো যেন আবহমান গ্রাম-বাংলারই প্রতীক। বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে যে গাছগুলো দেখা যায় তারই সমারোহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় বাগান জুড়ে। প্রত্যেক হলেই গড়ে আড়াই থেকে তিনশো প্রজাতির গাছ রয়েছে। বড় হলগুলোতে ছোট বড় কয়েক হাজারের মত গাছ রয়েছে। তবে হলগুলোর মালিরা জানায়, বাগান পরিচর্যার জন্য উপকরণ কেনার মত যথেষ্ট টাকা দেয়া হয় না। জহুরুল হক হলের মালি মো. মহীউদ্দীন জানান, এত বড় হল পরিচর্যা করতে আমাদের কোন বিদ্যুৎচালিত ঘাসকাটার মেশিন নাই। একটি মাত্র হাতে ঠেলা মেশিন। এ জন্য নিয়মিত ঘাস কাটা সম্ভব হয় না।

ফজলুল হক হল, শহীদুল্লাহ হল ও অমর একুশে হল ঘুরে দেখা যায় সেখানে দেশীয় জাতের গাছের সংখ্যা অনেকটা কম। এছাড়া কার্জন হলের সামনেও দেশীয় জাতের গাছ খুব কম। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হলগুলোতে জায়গা সংকটের জন্য তেমন গাছ লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। নতুন নির্মিত হল এফ রহমান, অমর একুশে ও সুফিয়া কামাল হলে বড় কোন গাছ নেই বললেই হয়।

পেছনে একঝাঁক নাগেশ্বর গাছ নিয়ে কলাভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে অপরাজেয় বাংলা। কলাভবন এলাকার মালি রাশেদুল ইসলাম জানায়, এখানে প্রায় ২০০ প্রজাতির ছোট বড় গাছ রয়েছে। এর মধ্য ১২ টি ইউক্যালিপটাস, শতধিক দেবদারু, ৫০ টির মত আমগাছ ও কাঠালগাছ আছে। কলাভবনের বাগানের তত্ত্বাবধায়ক নাসিরউদ্দীন আহমেদ জানায়, এ বছর যে ১৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল তা বছরের শুরুতে একবার গোবর সার দিতেই ব্যয় হয়ে গেছে। এখন চারা গাছের বেড়া কেনার মতও টাকা নাই।

এছাড়া অন্যান্য অনুষদ ও ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখা যায়, সবখানেই রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা গাছের জাত। তবে এসব ভবনের আশেপাশে ফলের গাছের চেয়ে সৌন্দর্যবোধক গাছের সংখ্যাই বেশি। মালিরা জানিয়েছেন নিরাপত্তাবেষ্টনির অভাবে গাছ রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় না।

বিভিন্ন হল, হোস্টেল, অনুষদ, ইনস্টিটিউট ও সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, বাগান দেখাশুনার দায়িত্বে প্রায় ১৬০ জন মালি রয়েছে। যার মধ্য হল ও হোস্টেলগুলোতে প্রায় ৯০ জন, অনুষদ ও ইনস্টিটিউট গুলোতে প্রায় ৩০ জন, আরবরি কালচার সেন্টারের অধীনের ২৮ জন ও বৃক্ষায়ন ও সৌন্দয্য বর্ধন কমিটির অধীনে ৮ জন মালি রয়েছে।

বাগান রক্ষণাবেক্ষণে হল ও হোস্টেল গুলোতে ২ লাখ ৮৭ হাজার, অনুষদ ও ইনস্টিটিউট গুলোতে ১ লাখ ০৮ হাজার, ফার্মাসীর প্লান্টে ৭৫ হাজার, আরবরি কালচার সেন্টারে ৫০ হাজার ও  বোটানিকাল গার্ডেনে ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়াও বৃক্ষায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির কাছে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়, তারা মল চত্বর সহ শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ টাকা খরচ করে।

অনুষদ ও ইনস্টিটিউট গুলোতে ১ লাখ ৮ হাজার টাকার মধ্য কলা, ব্যবসায় শিক্ষা, চারুকলা, সামাজ কল্যাণ ও আইন অনুষদের জন্য ১৫ হাজার করে টাকা দেয়া হয়। ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট, তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট ও পরিসংখ্যান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জন্য ১০ হাজার করে বরাদ্দ রাখা হয়। এছাড়া শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে ৮ হাজার ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়।

হল ও হোস্টেলগুলোতে ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার মধ্য জসীমউদ্দীন, শামসুন্নাহার, ও নবনির্মিত সুফিয়া কামাল হলে এ খাতে ২০ হাজার টাকা করে, ইন্টারন্যাশনাল হল, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও আইবিএ হোস্টেলের জন্য ১০ হাজার টাকা ও নবাব ফয়জুন্নেছা ছাত্রীনিবাসের জন্য ৭ হাজার টাকা দেয়া হয়। বাকি ১৪ টি হলে ১৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বৃক্ষায়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন কমিটিও রয়েছে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছকে প্রাধান্য দিয়ে আরবরি কালচারের সহযোগিতায় এ কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খালি জায়গা নির্ধারণ করে সেখানে গাছ রোপণ করে। প্রতি বছর জুন মাসে এ কমিটির নেতৃত্বে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। বর্তমানে প্রতি বছর গড়ে ১০০ গাছ লাগানো হয়। ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু হওয়া ২৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির প্রধান উপ উপাচার্য (প্রশাসন)।

বৃক্ষায়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির সদস্য সচিব ড. বিমল গুহ বলেন, কোথায় কি গাছ লাগানো হবে তা আরবারি কালচারের সহযোগিতায় এ কমিটির তত্ত্বাবধানেই নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এ কমিটির অধীনে একটি গাছ কাটা উপকমিটিও আছে। যারা সিদ্ধান্ত নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা করে।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. অলিউর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জায়গায়ই কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা হচ্ছে। তাই কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার জন্য শাস্তির বিধান রাখা উচিত। এছাড়াও তিনি গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে দেশীয় গাছের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, প্রতিবছরই বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাগানের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য কয়েকটি কমিটিও আছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ গাছ কাটলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।              

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরি কালচার সেন্টারের দায়িত্বেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছপালার সার্বিক পরিচর্যা করা হয়। এখানে মোট ২৮ জন মালি রয়েছে, এ সেন্টারে বছরে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এবং বৃক্ষায়ন কমিটির দু লাখ টাকাও মূলত এখান থেকেই খরচ করা হয়। এ সেন্টারের কর্মীরা কার্জন হল এলাকা, মোকাররম ভবন, মোতাহার হোসেন ভবন, কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি, কেন্দ্রীয় সমজিদ ও রোকেয়া হলের সামনে থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত সড়ক বিভাজকের গাছাপালা ও সৌন্দর্য রক্ষায় কাজ করে।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা বলেছেন, আমাদের বাগান অনুপাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গাছ রয়েছে, মালির সংখ্যাও যথেষ্ট। তবে বাগান পরিচর্যার উপকরণ কিনতে বাজেটের পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে।