Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ঢাবির ক ইউনিট

ফল নিয়ে জলঘোলা

আলী আজম সিদ্দিকী

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০২:২০ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

ফল নিয়ে জলঘোলা

ফল নিয়ে জলঘোলা

সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সুষ্ঠু এবং বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কখনো পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁসের মত গুরুতর অভিযোগ, কখনো জালিয়াতদের ভর্তি ঠেকানো যাচ্ছে না, আবার কখনো কখনো প্রশ্নেপত্রে গুরুতর ভুল হতে দেখা গেছে। তবে এবার বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে প্রথম বারের মত ফলাফলেও ভুল করেছে ক ইউনিট কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের পাশাপাশি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’।

 

প্রথম দফায় প্রকাশিত ফলে গণিত অংশে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ তুলে অভিভাবকদের অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। কমিটি জানতে পারে, পরীক্ষার গণিত অংশের একটি সেটের কোড ভুল হওয়ার কারণে ১৫-১৬ হাজার শিক্ষার্থীর গণিত অংশের ফল ভুল এসেছে। সত্যতা পাওয়ায় সেদিনই ৮ ঘন্টা পরে ফল স্থগিত করে ক ইউনিট কর্তৃপক্ষ। সেই ভুলটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গত ২৭ অক্টোবর নতুন করে ফল প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন করে ফলপ্রকাশের পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলছেন কোন কোন অভিভাবক। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ‘নতুন ফলে আগে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকায় আরও ২ হাজার ৪৭৮ জন যোগ হয়েছেন। এতে এই ইউনিটে পাসের হারও ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়েছে।’

এর আগে প্রথম দফায় ফলাফল প্রকাশের পরপরই ‘অবিশ্বাস্যরকমের অসামঞ্জস্যের’ অভিযোগ তোলেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক। খোরশেদ আলম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘তাঁর ছেলে রাজধানীর নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে তাঁর ছেলে মোটামুটি ভালো নম্বর পেলেও গণিতে পেয়েছেন মাত্র ১.২।’

হলিক্রস কলেজ থেকে পাস করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক ছাত্রীর ভাই বলেন, ‘পরীক্ষার পর গণিত অংশের প্রশ্ন সমাধান করে তাঁরা দেখেছেন, ওই অংশে উত্তর করা ১১টি প্রশ্নের মধ্যে প্রতিটিরই সঠিক উত্তর দিয়েছেন তাঁর বোন। কিন্তু ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ৮টি উত্তর ভুল।’

 

এর আগে, পরীক্ষার এক মাস পর ২০ অক্টোবর ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলে ১১ হাজার ২০৭ জন পরীক্ষার্থী নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত উভয় অংশে সমন্বিতভাবে উত্তীর্ণ হন। এই ইউনিটে এবার ১ হাজার ৭৯৫ আসনের বিপরীতে ৮৮ হাজার ৯৯৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। তবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ৮৫ হাজার ৮৭৯ জন। সেই ফলে পাসের হার ছিল ১৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। তবে সংশোধিত ফলে পাসের হার ১৫ দশমিক ৯৩ ভাগ, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৮৫ জন।

 

সংশোধিত এই ফলে ‘বড় ধরনের কোনো ভুল নেই’ বলে আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ‘ক’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ চৌধুরী। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘নতুন ফলে বড় ধরনের কোনো ভুল নেই। তবে টুকিটাকি কিছু ভুল থাকলেও থাকতে পারে। ছোটখাটো কোনো ভুল থাকলে তা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগও আছে।’ প্রথম দফায় ফল প্রকাশে ত্রুটি হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।

 

সাদা দলের নিন্দা : এদিকে ক ইউনিটের ফলাফলে ত্রুটির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় সাদা দল। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় এই ইউনিটের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনটি। গত ২১ অক্টোবর নিন্দা জানিয়ে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

 

বিবৃতিতে অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার মত স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে ফলাফলে ত্রুটির ঘটনা নজিরবিহীন। এ ঘটনায় এই বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমরা বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত। এবার ফল প্রকাশ করতে একমাস সময় নিয়েছে। এরপর এ ধরনের ভুল। যা কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না। কারণ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সারা দেশের জন্য একটি উদাহরণ। সেখানে এধরনের ভুল অগ্রহণযোগ্য।’

 

ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে দাবি করেন ওবায়দুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ^দ্যালয়ের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য। কিন্তু আজ এ ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা সম্পর্কে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধিত ফল প্রকাশ করার পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ ত্রুটির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।