Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

বিভাগ দিবসের অঙ্গীকার: গণমানুষের গণমাধ্যম হয়ে উঠাই লক্ষ্য

শারমিন জাহান, আরেফিন মিজান ও সাইরুল

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০১:০৭ এএম, ৩ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৪:৪৮ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৮ বুধবার

বিভাগ দিবসের অঙ্গীকার: গণমানুষের গণমাধ্যম হয়ে উঠাই লক্ষ্য

বিভাগ দিবসের অঙ্গীকার: গণমানুষের গণমাধ্যম হয়ে উঠাই লক্ষ্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: সকাল থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। বর্ষাকালের এই আমুদে আবহাওয়ায় কাঁথা মুড়ে ঘুমোতে কে না চায়! কিন্তু বিছানার মায়া ছেড়ে, ‘দুর্গম’ রাস্তা পাড়ি দিয়ে হলেও সবার আজ আসা চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে।

কলাভবনের নিচতলার করিডোরে যে-ই হেঁটে যায় তার মনেই প্রশ্ন: সাংবাদিকতা বিভাগ আজ বধুবেসে সেজেছে কেন! আরে, সাজবেই বা না কেন! আজ তার ৫৬তম জন্মদিন। ১৯৬২ সালের ২রা আগস্ট সন্ধ্যাকালীন ডিপ্লোমা কোর্সের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে বিভাগটি। এরপর ধীরে ধীরে মাস্টার্স (১৯৬৭) ও অনার্স (১৯৭৭) ডিগ্রীর ব্যবস্থাও করা হয় এখানে। শুরুতে শুধু সাংবাদিকতা বলা হলেও ধীরে ধীরে সবাই উপলব্ধি করেন যে সাংবাদিকতার প্রথম পাঠই হল যোগাযোগ। তাই দেরি না করে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে রাখা হল ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগ।

নামের মান রেখেছে বিভাগ

গণযোগাযোগ শুধু নামেই নয়; কাজেও উপস্থাপন করেন এখানের ৩০ জন পূর্ণকালীন ও ১৪ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক। গণমাধ্যম বিষয়ে বিশিষ্ট তাত্ত্বিকই নন, বরং খোদ গণমাধ্যমের উজ্জ্বল নক্ষত্ররা শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিখিয়ে থাকেন এখানে। কেননা তারা বিশ্বাস করেন সাংবাদিকতা মানেই একটি ব্যবহারিক জ্ঞান।

দীর্ঘ ৫৬ বছর পাড়ি দিল সবার প্রিয় এই বিভাগটি। সামনে যেতে হবে আরও দূর। শুরুর দিকের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা কাটিয়ে গণযোগাযোগ ও গণমাধ্যমের কি করে উন্নতি সম্ভব সে লক্ষ্যই বুকে ধারণ করে বিভাগটি।

গণমাধ্যম গণমানুষ গণতন্ত্র

প্রতিবারের মতো এবারো সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে দিবসের শুরু করেন সবাই। বৃষ্টির কারণে এবারের র‍্যালি শুরু হতে একটু বিলম্ব ছিল। গায়ে বিভাগের টিশার্ট জড়িয়ে হুঙ্কার ও স্লোগানে পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত করে শিক্ষার্থীরা। তাদের এগিয়ে নিয়ে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামানসহ বিভাগের আরও গণ্যমান্য শিক্ষক।

বিভাগটি যেন একটি পরিবার। প্রাক্তন বর্তমানের ভেদাভেদ এখানে নেই বললেই চললে। অন্তত এই দিনটিতে মনে হয় এই বিভাগে বুঝি একটিই ব্যাচ! প্রাক্তনরা ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিলেও বিভাগের মায়া ছাড়তে পারেন না কখনোই।

এবারের বিভাগ দিবসের মূল স্লোগান ছিল গণমাধ্যম গণমানুষ গণতন্ত্র। বাড়তি আয়োজন হিসেবে ছিল ৩টি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান। বৃত্তিগুলো হল তাজিন স্মৃতি বৃত্তি, নভেরা দিপিতা স্মারক বৃত্তি ও আতাওস সামাদ ট্রাস্ট বৃত্তি। এর মধ্যে প্রথম সেমিস্টার ফাইনালে প্রথম হওয়ার জন্য প্রদান করা হয় তাজিন স্মৃতি বৃত্তি এবং আতাওস সামাদ ট্রাস্ট বৃত্তি। অন্যদিকে অনার্স ফাইনালে প্রথম স্থান অধিকারী লাভ করেন নভেরা দিপিতা স্মারক বৃত্তি। র‍্যালি শেষে সকাল ১১টায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেয়া হয়।

সাংবাদিকতায় মানবিকতার কর্ষণ থাকতে হবে...নাহলে তা হবে যান্ত্রিক ও দানবীয়

উপাচার্য আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক সাদেকা হালিম সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন (যদিও অনিবার্যকারণবশত সাদেকা হালিম আসতে পারেন নি)। তবে স্মারক বক্তা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক শ্রদ্ধেয় ড. সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতি এই আয়োজনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

স্মারক বক্তা হিসেবে ড. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমের শক্তি এবং এর দুর্বলতা উভয়ই তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন গণমাধ্যমের মতো শক্তিশালী এই মাধ্যমটি বর্তমানে পুঁজিপতি, ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যম মালিকদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই এখনকার সংবাদমাধ্যমের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্র সংসদ থাকা অনেক গুরত্ত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়াও উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামানের বক্তব্যেও উঠে এসেছে কি করে গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভের দায়িত্ব পালন করতে পারে। তার মতে, “গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগকে উদার ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন বিভাগ বলা হয়”। ভবিষ্যতেও বিভাগটি গণমাধ্যমকে গণমানুষের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে বলে তিনি আশা রাখেন।

গণমানুষের হাতের আরও নাগালে

২০১৮ সালের ২রা আগস্ট গণমাধ্যমের প্রাণ, এই বিভাগটি আরেকটি মাইলফলক স্থাপন করে। প্রথমবারের মতো বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইট (https://www.dumcjedu.com/) এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুশীলনমূলক অনলাইন নিউজ পোর্টাল (https://www.dumcjnews.com/about) এর শুভোদ্বধন করেন বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. কাবেরি গায়েন এবং উপাচার্য আখতারুজ্জামান। প্রযুক্তির দিকে বাড়ানো আরেকটি পদক্ষেপ এটি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমনি সুযোগ পাবেন সত্যিকার সাংবাদিকতা চর্চার, তেমনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনাগত শিক্ষার্থীরাও খোঁজখবর রাখতে পারবেন প্রতিনিয়ত।

কিছু অপূর্ণতা

১৯৬২ সালে জন্ম নেয়া সে ছোট শিশুটি ক্রমেই ডানা মেলছে। তার বৃদ্ধির গতি শ্লথ হতে পারে কিন্তু থেমে নয়। সবার আন্তরিক চেষ্টার পরেও বর্তমান শিক্ষার্থীদের রয়েছে কিছু ক্ষোভ। বিভাগের নবম ও দশম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মনে করেন পর্যাপ্ত প্রযুক্তি নেই বিভাগের। শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিছিয়ে আছেন তারা। এছাড়া দিন দিন বেড়ে উঠা এই এমসিজে পরিবারের স্থান সংকুলান হয় না শুধু ১০৮৮ নম্বরের রুমে। তার উপর নেই উন্নত মান ও পর্যাপ্ত পরিমাণের মাল্টিমিডিয়া, ল্যাব, ফটো ও ভিডিও ক্যামেরার মতো অপরিহার্য যন্ত্রপাতি। আধুনিক বিশ্বের সাংবাদিকতার সাথে পাল্লা দিতে হলে এখানের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন আরও উন্নত সুযোগ সুবিধা।


তবু পথ চলে যাওয়া...


আজকের বিভাগের ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মারক বক্তৃতা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন বিভাগের এসব সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। এর সমাধানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আজ যেমন নতুন ওয়েবসাইট ও নিউজ পোর্টাল যোগ হল, আগামীতে এই বিভাগটি আরও উন্নত ও সময়োপযোগী প্রযুক্তি যোগ করবে আশা করা যায়। সে সাথে এবারের মূলমন্ত্র ‘গণমানুষের গণমাধ্যম’ হয়ে উঠার জন্য নির্ভীক সৈনিকও এই বিভাগ উপহার দিয়ে যাবে।

ডিইউএমসিজেনিউজ/০২ আগস্ট ২০১৮