Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

বিভাগ দিবস: পথ চলার ৫৬ বছরে এমসিজে

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০৬:১২ পিএম, ১ আগস্ট ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৮:২৬ পিএম, ১ আগস্ট ২০১৮ বুধবার

বিভাগ দিবস: পথ চলার ৫৬ বছরে এমসিজে

বিভাগ দিবস: পথ চলার ৫৬ বছরে এমসিজে

বিন্দু থেকে সিন্ধু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইতিহাস আমাদের এ কথাটাই মনে করিয়ে দেয়। খুব ছোট পরিসরে কার্যক্রম শুরু করা এই বিভাগটি এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়েছে। আর এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে ৫৬টি বছর। ২ আগস্ট এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অন্যান্য বছরের মতন এবারও ২ আগস্টে পালিত হবে ‘বিভাগ দিবস’। দিনটিকে ঘিরে রয়েছে নানা আয়োজন।

একের পর এক ধাপ গৌরবের সাথে অতিক্রম করে বর্তমান পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগটি। তৈরি করেছে অসংখ্য নামকরা সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। ১৯৬২ সালে এক বছরের সান্ধ্যকালীন ডিপ্লোমা কোর্সের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই বিভাগের পথচলা। বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন ছিলেন আতিকুজ্জামান খান। এই বিভাগটি যখন শুরু হয় তখন এদেশের বেশিরভাগ মানুষই সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেনি কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই ক্ষেত্রেটির প্রসার ঘটেছে। ১৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয়েছিল। আজ সে সংখ্যা ছড়িয়ে গেছে ৩০০’র বেশি।

বর্তমান ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বহির্বিভাগ তখন ছিল কলাভবন। সেখানের দোতালার ছোট্ট একটি কক্ষ থেকে অ্যানেক্স ভবন হয়ে বর্তমান কলাভবন পর্যন্ত এই বিভাগের পথচলায় রয়েছে অনেক অধ্যায়। ১৯৬৮ সালে ডিপ্লোমা কোর্সের সাথে সাংবাদিকতায় এমএ কোর্স চালু করা হয়। ২ বছর মেয়াদী এই কোর্সটি ভাগ করা হয়েছিল ২টি পর্বে। ১৯৭০ সালে প্রথম শিক্ষার্থীরা এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ হওয়ার পর বিভাগে আসে অনেক পরিবর্তন। আগে কেবল ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদান করা হত। কিন্তু ১৯৭১ এর পরে ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই পাঠদান শুরু হয়। ১৯৭৭ সালে ৩ বছর মেয়াদী বিএ (অনার্স) কোর্স চালু করার মধ্য দিয়ে বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়। বিভাগের নামের সাথে ‘গণযোগাযোগ’ যুক্ত করা হয়। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় চালু হওয়া বিএ (অনার্স) কোর্সটি এই উপমহাদেশে এই বিষয়ে চালু করা প্রথম অনার্স কোর্স। এছড়াও এই সময়ে এমএ কোর্সটি চালু রাখা হলেও ডিপ্লোমা কোর্সটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভাগে আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয় ২০০২ সালে। এ সময়ে বিভাগটিকে কলা অনুষদের পরিবর্তে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আওতাধীন করা হয়।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা-এই নামটির যৌক্তিকতা বজায় রেখে বিভাগে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে সমান্তরালে পাঠদান করা হয়। কোর্সগুলো সমসাময়িক চাহিদার কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়। যেন শিক্ষার্থীরা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। বিভাগের মূল উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে কন্টেন্ট, দক্ষতা, সামাজিক প্রয়োজনীয়তা এবং শিক্ষার্থীদের কৌতূহল-এই সবকিছুর মিশেলে শিক্ষার্থীদের নানান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া। এর ফলে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ যোগাযোগ কর্মী ও সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তোলায় হল বিভাগের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে শিক্ষারথীদের যথাযথ শিক্ষা প্রদানের জন্য বিভাগে রয়েছে ৩০ জন পূর্ণকালীন শিক্ষক এবং ১৪ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক। এছাড়াও দেশ বিদেশের বিখ্যাত লেখকদের অসংখ্য বইয়ের সমন্বয়ে রয়েছে একটি সেমিনার। বিভাগে রয়েছে ভিডিওগ্রাফি, ফটোগ্রাফি ও কম্পিউটার সম্পর্কিত পাঠদানের জন্য ৩টি ল্যাবের সমন্বয়ে একটি মিডিয়া সেন্টার।

এই এই বিভাগের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী বর্তমানে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্রিকায় সম্মান ও গৌরবের সাথে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করছে।

অন্যান্য বছরের মতন এই বছরও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগ দিবস ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাখা হয়েছে নানান আয়োজন। সকাল ১০ টায় প্রতিবারের মতন এবারও অপরাজেয় বাংলা থেকে র‍্যালি শুরু হবে। এরপর ১১টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে থাকছে এমিরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্মারক বক্তৃতা। বিভাগের চেয়ারপার্সন কাবেরী গায়েনের সভানেতৃত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিমের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

ডিইউএমসিজেনিউজ/১ আগস্ট ২০১৮