Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ভাব গম্ভীর্যের সাথে ঢাবির শোক দিবস পালিত

সাইয়েদুজ্জামান

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১০:০৭ এএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০২:৩৯ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ বুধবার

জগণ্ণাথ হল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ।ছবি: সাইয়েদুজ্জামান

জগণ্ণাথ হল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ।ছবি: সাইয়েদুজ্জামান

বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে যথাযথ ভাবগম্ভীর পরিবেশে রোববার (১৫ অক্টোবর) পালিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস।

১৯৮৫ সালের এই দিনের রাতে জগন্নাথ হলে সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যে সকল ছাত্র, কর্মচারী ও অতিথি নিহত হয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রতি বছর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। 

সেই রাতে জগণ্নাথ হলের টিভি রুমের ছাদ ধসে পড়ে- অকাল মৃত্যু ঘটে ৩৯ জন ছাত্র, কর্মচারী ও অতিথির এবং আহত হন তিন শতাধিক মানুষ। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল ও প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়।

সকাল সাড়ে ৭টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অংশগ্রহণ করে। তারা জগণ্নাথ হল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষ হলে অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টিভি কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, প্রাধ্যক্ষ, তৎকালীন নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকতা-কর্মচারীর ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ১৫ অক্টোবরের নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, মানবিকতার ডাকে সাড়া দিয়ে সেদিন সবাই এসেছিল উদ্ধার কাজে। ঢাকা শহরের সকল প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নেমেছিল। এই দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব যদি আমরা অনুধাবন করতে চাই তাহলে শিক্ষার্থীরাই হবে তার প্রধান বাহক।

উপাচার্য বলেন, ১৯৮৫ সালের ১৫ই অক্টোবরের মতো আর কোন ঘটনা যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না ঘটে এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, আমরা চাই না কোনভাবেই এ ধরণের ঘটনা ঘটুক।

এছাড়াও, শোক দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জগণ্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা, নিহতদের তৈলচিত্র ও তৎসম্পর্কিত দ্রব্যাদি প্রদর্শন এবং বাদ আছর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসহ সকল হল মসজিদে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।