Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

ভারতের মাটিতে বিজয়নিশান উড়ালো ঢাবি দল

মোঃ রাগীব রহমান

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১২:১৮ এএম, ৮ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ১০:৪৪ এএম, ৮ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার

দিল্লীতে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল

দিল্লীতে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল

ভারতের মাটিতে লাল-সবুজের বিজয় নিশান উড়িয়ে গত ১২ই অক্টোবর দেশে ফিরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী সাংস্কৃতিক দল। গত ৬ থেকে ৮ই অক্টোবর ভারতের ‘ও. পি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’-তে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব ‘বিশ্বমিল’ এ অংশগ্রহণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ এর ২৬ সদস্যবিশিষ্ট সাংস্কৃতিক দল।

‘জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের সনিপাতে অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অল্প কয়েক বছরেই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিদ্যাপীঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে উন্নত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ প্রতি বছর আয়োজন করে ‘বিশ্বমিল’ নামক আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এই উৎসবে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মোট ৫৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আরও অংশগ্রহণ করে ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়’ (বুয়েট) ও ‘ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়’।

               

আন্তর্জাতিক এই উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী দলটি গত ৩রা অক্টোবর রাতে সড়কপথে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পরদিন কলকাতা পৌঁছে ৫ই অক্টোবর বিমানপথে উড়াল দেয় দিল্লীর উদ্দেশ্যে। দিল্লীতে পৌঁছানোর পর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় আয়োজকদের প্রতিনিধি একটি দল।

উৎসবে একক নৃত্য, দলীয় নৃত্য, একক অভিনয়, দলগত অভিনয়, দলগত সঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীতসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় অংশগ্রহণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল। সেখানে তারা তুলে ধরে বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপকরণ। দলগত কৌতুকাভিনয় পর্বে অংশগ্রহণকারী সকল দলের মধ্যে রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল। একক অভিনয়ে বিএসএফ এর গুলিতে নিহত ফেলানীর বাবা চরিত্রে অভিনয় করে রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাগীব রহমান। সীমান্তে গুলি করে নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধসহ ফেলানী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয় দশ মিনিটের এই পরিবেশনায়। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের পরিবেশিত দলগত নৃত্যটি উৎসবের চূড়ান্ত পর্বে ব্যাপক প্রশংসিত ও দর্শকনন্দিত হয়। নৃত্য পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেঘলা, রাঁধা, পৃথ্বী, শর্মিষ্ঠা, মিথিলা, নিশাত, স্বর্ণা, তুলি ও তরী।

       

একক অভিনয়ে রানার্স-আপ হওয়া ঢাবি শিক্ষার্থী রাগীবের পরিবেশনা

       

উৎসবের চূড়ান্ত পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৃত্যদলের পরিবেশনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী দলের অন্যতম সদস্য মেহেরুন নাহার মেঘলা অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “গত কয়েকটা দিন আমাদের সবার জন্যই ছিলো অত্যন্ত স্মরণীয়; কখনও আনন্দ, কখনও টেনশন, আবার কখনও ভীষণ উত্তেজনায় ঠাঁসা। আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশগ্রহণ ছাড়াও কলকাতায় রবি ঠাকুরের জোড়াসাঁকো জমিদার বাড়ি, কলেজ স্ট্রিটের বিখ্যাত কফি হাউস, প্রেসিডেন্সি কলেজ, ইকো পার্ক ইত্যাদি ঘুরে দেখার সুযোগ হয় আমাদের।” অপর এক শিক্ষার্থী সিমলিন জারীন বলেন, “আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যবৃন্দ আমাদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের কয়েজনের সাথে। নিজের বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশকে এভাবে বহির্বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।”

‘বিশ্বমিল’ এর মতো একটি বড় উৎসব আয়োজন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়োজক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক দ্বীপ ব্যানার্জী বলেন, “আমি শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে ছিলাম। দল হিসেবে তারা দারুণ এবং প্রত্যেকেই অত্যন্ত বন্ধুসুলভ। ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরণের কোন আন্তর্জাতিক উৎসবের আয়োজনে আমাদের আমন্ত্রণ জানালে আমরাও সেখানে অংশগ্রহণ করবো।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের মডারেটর ও ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ শুদ্ধ বাংলা সংস্কৃতির চর্চা করে আসছে। এতো বড় পরিসরের কোন আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশগ্রহণ করা দলের অধিকাংশ সদস্যের জন্য এবারই প্রথম। কিন্তু তারপরও নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের জন্য তারা সাফল্য বয়ে এনেছে; যা অত্যন্ত গর্বের।”