Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

বাতির নিচে অন্ধকার!

মোঃ সাইমুম হাসান

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০৯:২৩ এএম, ৮ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০২:২২ এএম, ২ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার

সূর্যসেন হলের একটি দোকানে কর্মরত শিশু শ্রমিক

সূর্যসেন হলের একটি দোকানে কর্মরত শিশু শ্রমিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২১টি হল। এসব হল এ মেস,ক্যান্টিনের পাশাপাশি অনেকগুলো দোকান রয়েছে। যার অধিকাংশতে কাজ করে কম বয়সী ছেলেরা। সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে তাদের কাজ করানো হয়।

তাদের কাজ শুরু হয় সকাল ছয়টা থেকে এবং শেষ হয় রাত বারটায়। ক্যান্টিনের বয়রা বিশ্রামের জন্য কিছু সময় পেলেও দোকানে কাজ করা বয়দের সেই সুযোগও থাকে না।তাদের নেই থাকার ভালো জায়গা। অল্প স্থানে অনেকে গাদাগাদি করে থাকে।

কম টাকায় পাওয়া যায় এবং ইচ্ছে মত কাজ করানো যায় বলে দোকান ও ক্যান্টিন মালিকদের প্রথম পছন্দ কম বয়সীরা।

আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু আবার ১৫ বছরের নিচে কাউকে কাজ করান ‘শিশু শ্রম’ যা আইন বিরোধী। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই দেদারসে চলছে এই আইনের অমান্যের উৎসব,যেন দেখার কেউ নেই।

এ বিষয়ে সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট জনাব মাকসুদ কামালকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ‘আমার হলে যেসব ছেলেরা কাজ করে তাদের সবার বয়স ১৫ বা তার বেশি।’

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। সূর্যসেন হলের একটি দোকানে কাজ করা আল-আমিনকে বয়স জিজ্ঞেস করলে প্রথমে উত্তর না দিতে চাইলেও পরে জানায় তার বয়স ১৩। যদিও তাকে তার মালিক আসল বয়স বলতে নিষেধ করে দিয়েছে। এত কম বয়সে কেন সে কাজ করছে প্রশ্নের উত্তরে আল-আমিন বলে, ‘আমার বাবা মারা গিছে। বাড়িতে মা আর ছুটো ভাই আছে। তারা আমার ইনকামে চলে। কাজ না করলে সংসার চালাবো কি দি?’

কত টাকা আয় করে প্রশ্নে জানায়, সে মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা পায় তবে অন্যান্য দোকানে যারা কাজ করে তারা কেউ আড়াই হাজারের বেশি পায় না।

লেখাপড়া করতে ইচ্ছে করে কি না জানতে চাইলে জসিম নামে আরেকজন জানায়, ‘টাইম কই যে পড়ুম। কাজ কইরিতো শেষ হয় না।’

ছোট বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে একজন ক্যান্টিন মালিক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘ আমাদের যা আয় তা দিয়ে বড় মানুষ রাখলে খুব বেশি লাভ থাকবেনা। তাছাড়া বড়দের অনেক ঝামেলা আছে যা ছোটদের ক্ষেত্রে নাই।’

বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠন ক্যান্টিন বয়দের পাঠদানের উদ্যোগ নিলেও তা খুব বেশি ফলপ্রসূ হয়নি। এর অন্যতম কারণ মালিকদের অনীহা, বয়দের কাজ শেষে নতুন করে শেখার উৎসাহে ভাটা।

ক্যান্টিন বয়দের পড়ালেখা নিয়ে কাজ করা  চেতনা পরিষদের সদস্য যোবায়ের জানায়, ‘প্রথমদিকে বয়দের এবং মালিকদের আগ্রহ থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। আসলে আমরা ক্লাস নিয়ে থাকি বিকেলে। অধিকাংশ ক্যান্টিন বয়েরা কাজ করার পর এই সময়টাতে বিশ্রাম নিয়ে থাকে। তাই ঐ সময়ে ক্লাস করতে তারা আগ্রহী হয় না। আর অন্য সময়ে ক্লাস করানোও সম্ভব না। ফলে আমরা খুব অল্প বয়কেই শেখাতে পারি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাপ দিলে অবস্থার উন্নতি সম্ভব।’

ক্যান্টিন বয়, দোকানে কাজ করা ছেলেদের পাশাপাশি রয়েছে কিছু ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা এবং পথশিশু। তাদেরও দেখার কেউ নেই। প্রশাসনের একটু স্বদিচ্ছাই পারে এসব শিশুদের জীবনকে সুন্দর করতে।