Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

সংবর্ধনায় বিদায় নিলেন সাংবাদিকতার ৪ অধ্যাপক

মোঃ রাগীব রহমান

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ১২:৩০ এএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার | আপডেট: ০৯:১০ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার

অবসরপ্রাপ্ত চার শিক্ষকের সাথে বিভাগের বর্তমান শিক্ষকদের একাংশ

অবসরপ্রাপ্ত চার শিক্ষকের সাথে বিভাগের বর্তমান শিক্ষকদের একাংশ

জীবনের সবচেয়ে কর্মময় সময়গুলো অতিবাহিত করে সুদীর্ঘ সময় ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে হাতে-কলমে সাংবাদিকতা শিক্ষাদানের মাধ্যম নিজ গুণে ঋদ্ধ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগের চার অধ্যাপক। বিদায়ী শিক্ষকগণ হলেন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান, অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান, অধ্যাপক শামসুল মজিদ হারুন এবং অধ্যাপক কাজী আবদুল মান্নান। 

গত ১৪ই নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই অধ্যাপকদের বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দীক, বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক মো. মফিজুর রহমানসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।

বিদায়ী এই শিক্ষকগণের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত নিম্নে সন্নিবেশিত হলো-

 

অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান

অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান ১৯৪১ সালের ৩০শে নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ওয়াজেদ আলী খান এবং মা খলিকা আক্তার নুর বেগমের একমাত্র সন্তান তিনি। তাঁদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে।

সাখাওয়াত আলী খানের শিক্ষাজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় কলকাতায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৫ সালে কলকাতার পার্ক সার্কাসে অবস্থিত মে ফ্লাওয়ার স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হন তিনি। বাবা তখন কলকাতায় এয়ার রেইড প্রটেকশন (এআরপি)-এর ইকুইপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে মায়ের সাথে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। ধানুয়া প্রাইমারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে তিনি বাবার সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন। আরমানিটোলায় অবস্থিত হাম্মাদিয়া হাইস্কুল নামের একটা অখ্যাত স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন তিনি। ১৯৪৮ সালে আরমানিটোলা গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত এই স্কুলে পড়েন ১৯৫১ সাল পর্যন্ত। সাখাওয়াত আলী খান সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন কলেজিয়েট হাইস্কুলে। ১৯৫৬ সালে এই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন তিনি।

১৯৫৭ সালে সাখাওয়াত আলী খান ঢাকা কলেজে আই.এস.সি.-তে ভর্তি হন। ঢাকা কলেজের বর্তমান ক্যাম্পাসে প্রথম দিকের ব্যাচ ছিলেন তাঁরা। এই সময় বাম রাজনীতিকদের সংস্পর্শে এসে প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনায় অনুপ্রাণিত হন। ফলে ১৯৫৮-তে আই.এস.সি.-র ফাইনাল পরীক্ষায় ব্যবহারিক বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়া হয় নি। পরের বছর অর্থ্যাৎ ১৯৫৯ সালে আই.এস.সি. পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ভর্তি হন। বাংলায় এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন।

ছাত্রজীবনে ১৯৫৮ সালে জেনারেল ইস্কান্দার মির্জার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত ‘দৈনিক মজলুম’-এ কিছুদিন কাজ করেন। সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা করার পর শিক্ষানবীশ হিসেবে কিছুদিন ইত্তেফাক গ্রুপ থেকে প্রকাশিত ‘ঢাকা টাইমস’-এ কাজ করেন।

আবদুল গাফফার চৌধুরী সম্পাদিত ‘সাপ্তাহিক সোনার বাংলা’ পত্রিকা ও ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করেন। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খাঁর পত্রিকা ‘দৈনিক পয়গাম’-এ সিনিয়র সাব-এডিটর হিসেবে যোগ দেন ।

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে গঠিত পাকিস্তান প্রেস ট্রাস্ট ১৯৬৪ সালে ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকা প্রকাশের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সেখানে বেছে বেছে উচ্চবেতনে লোক নেয়া হয়। তাঁর কাছেও সেখানে চাকরি করার প্রস্তাব আসে। ৫ই জানুয়ারি, ১৯৬৫ সালে হাসান হাফিজুর রহমানসহ ‘দৈনিক পাকিস্তান’-এ যোগ দেন তিনি। সিনিয়র সাব-এডিটর কাম শিফট ইনচার্জ ছিলেন। স্বাধীনতার আগে-পরে মিলিয়ে প্রায় আট বছর এই পত্রিকায় (পরবর্তী কালে ‘দৈনিক বাংলা’) চাকরি করেন। এই সময় জুনিয়র সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বও পালন করেন।

আবুল কালাম শামসুদ্দিন, হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, আহসান হাবিব, নির্মল সেন, ফজলুল করিম, ফওজুল করিম, খোন্দকার আলী আশরাফ, তোয়াব খান, মোজাম্মেল হক, আহমেদ হুমায়ুন, সানাউল্লাহ্ নূরী, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, মাফরুহা চৌধুরী, ফজল শাহাবুদ্দীন, আফলাতুন প্রমুখ ‘দৈনিক পাকিস্তান’-এ (এবং পরবর্তী কালে ‘দৈনিক বাংলা’য়) তাঁর সহকর্মী ছিলেন।

১৯৭২ সালে তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা পরিত্যক্ত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ ভবন এবং প্রেস ঠিকঠাক করে দৈনিক বাংলা প্রকাশের উদ্যোগ নেন। প্রথমটায় অর্থায়ন একটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, পরে সরকার পত্রিকাটিকে ট্রাস্টভুক্ত করে। শুরু হয় ‘দৈনিক বাংলা’র যাত্রা।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ প্রায় শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়ে। অধ্যাপক নুরউদ্দিনের অনুরোধে এই বিভাগে শিক্ষকতা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ১৯৭২ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর সাংবাদিকতা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরের বছর সহকারী অধ্যাপক পদে এবং ১৯৯২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

তাঁর দীর্ঘতম সময়ের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে তিনি অবসর নেন ২০০৭-এর ৩০ জুন।

বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সুপার নিউমেরারি অধ্যাপক। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে গণযোগাযোগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে যোগ দেন।

ড. সাখাওয়াত আলী খান ২০০৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এর সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং মিডিয়া স্টাডিজ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাখাওয়াত আলী খান ১৯৬৩ সালে মালেকা খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁরা এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক-জননী।

 

অধ্যাপক ড. মো গোলাম রহমান

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতিমান গণমাধ্যম গবেষক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান ১৯৭৭ সালে সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় চার দশকের শিক্ষকতা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগীয় চেয়ারপারসন এবং ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাপুয়া নিউগিনি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’র ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কমিউিনিকেশন স্টাডিজ বিভাগে অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (২০০৮-২০১০) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া অধ্যাপক রহমান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর চেয়ারম্যান এবং ‘ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র উপ-উপাচার্য হিসেবেও (২০১৪-১৫) কর্মরত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান আমেরিকার ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিনিয়র ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে পোষ্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৮৬ সালে ভারতের মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। উল্লেখ্য, এটিই ভারতের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি। সরকারি বৃত্তি নিয়ে তিনি মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় এম, এ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং দু’টি স্বর্ণপদক লাভ করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর প্রায় ৭০টি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর রচনা ও সম্পাদনায় ১৩টি গ্রন্থ ও ম্যানুয়াল দেশ ও বিদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি দেশের জ্ঞানজগৎ, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের উৎকর্ষ সাধনেও অবদান রেখে চলেছেন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টকশো ছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সেমিনার, কনফারেন্স ও সংলাপে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের তিনি একজন গৌরবান্বিত মুক্তিযোদ্ধা।

এছাড়া জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন কিমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গণমাধ্যম ও উন্নয়ন যোগাযোগে অসামান্য অবদানের জন্য ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর মাস কমিউনিকেশন রিসার্চ’ (IAMCR) ১৯৯০ সালে প্রকাশিত “হু’জ হু ইন মাস কমিউনিকেশন” গ্রন্থের কভারে   ড. রহমানের ছবি প্রকাশ করে তাঁকে সম্মানিত করেছে। ২০০১ সালে ইউনিভার্সেল পিস ফেডারেশন ব্যাংকককে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ড. রহমানকে শান্তির দূত (অ্যাম্বাসেডর ফর পিস) সম্মাননা প্রদান করে। তিনি বাংলাদেশ সেন্সর বোর্ড আপিল কমিটির সদস্য।

অধ্যাপক রহমান শিক্ষা ও পেশাগত প্রয়োজনে ৩০টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি ‘এশিয়ান মিডিয়া, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ (AMIC) এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি। ড. রহমান ‘ইউনাইটেড ন্যাশনস ইন্টারন্যাশনাল ড্রাগ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ এর গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশন ফর এডুকেটরস ইন জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন (CAEJAC) এর সহ-সভাপতি ছিলেন।

বর্তমানে অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

 

অধ্যাপক শামসুল মজিদ হারুন

অধ্যাপক শামসুল মজিদ হারুন রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলার মাজবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলজীবন থেকেই সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রতি ঝোঁক ছিলো তাঁর। ১৯৬১ সালে নবাবপুর গভ. হাই স্কুল থেকে মেট্রিক এবং ১৯৬৩ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। অধ্যাপক হারুন ১৯৬৭ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এমএ পাশ করার পর পরের বছর (১৯৬৮) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ক ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন। ছাত্রজীবনের পাট চুকিয়ে তিনি ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। শামসুল মজিদ হারুন একাত্তরের রণাঙ্গনে সরাসরি যুদ্ধে অংশ না  নিলেও ঢাকা কলেজের শিক্ষক হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে পরোক্ষভাবে অবদান রাখেন।  ১৯৭৩ সালের নভেম্বর মাসে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৯ সালে একই বিভাগের অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

অধ্যাপক শামসুল মজিদ হারুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পর বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও বই পড়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত থেকে তিনি তাঁর অবসর সময় যাপন করছেন।

 

অধ্যাপক কাজী আব্দুল মান্নান