Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

স্ট্রিট ফুডে অনন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ফারজানা তাসনিম পিংকি

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০৩:০৪ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৩:৪০ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭ বুধবার

ক্যাম্পাসে খুব সহজেই চোখে পড়ে এমন খাবারের ভ্যান

ক্যাম্পাসে খুব সহজেই চোখে পড়ে এমন খাবারের ভ্যান

স্ট্রিট ফুড, খাঁটি বাংলায় যাকে বলা যায় রাস্তার খাবার, বর্তমানে তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোকে ছাপিয়ে উন্নত দেশেও দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, ভারত কিংবা কোরিয়ার পাশাপাশি বেলজিয়াম, ইতালি, ডেনমার্কেও স্ট্রিট ফুডের চাহিদা কোন অংশে কম নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশেও এই রাস্তার খাবার দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের কাছে সৃষ্টি হয়েছে স্ট্রিট ফুডের আলাদা একটি আবেদন। তুলনামূলক কম দামে ভোজনরসিকদের মুখরোচক খাবার খাওয়াতে রেস্টুরেন্টের বাইরে ভ্যান নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন এই ট্রেন্ড থেকে বাদ যায়নি আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্ট্রিট ফুড শব্দটি শোনার পর আমাদের মানসপটে কোন খাবারগুলোর নাম আগে ভেসে ওঠে? ফুচকা, বিভিন্ন রকম ভর্তা, আঁচার, চা, আইসক্রিম, লেবুর শরবত- এগুলোই তো? এই রাস্তার খাবারসমূহের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। ছোটখাটো খিদে পেলে সেই ক্ষুধা মেটানোর জন্য যুগ যুগ ধরে বাঙালিদের কাছে এই খাবারগুলোর কোন বিকল্পই নেই। আসুন এবার তাহলে দেখা যাক প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের’ আনাচে কানাচে কি ধরনের রাস্তার খাবার বা স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়।

শুরু করা যাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের শেষ দিক থেকে। নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ‘মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ’ পেরিয়ে আসলে প্রথমেই দেখা মেলে ঐতিহাসিক কলাভবনের। কলাভবনের পাশেই রয়েছে ডাকসু। আর ডাকসুর ডান পাশে রয়েছে ক্যাম্পাসের সবচেয়ে সুস্বাদু ও লোভনীয় ফুচকার দোকান। প্রতি প্লেট মাত্র ৩০ টাকা এবং প্রতি প্লেটে ৮টি করে ফুচকা যা পরিবেশন করা হয় টকের সাথে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তো বটেই, বহিরাগতরাও এই ফুচকার রীতিমতো ভক্ত।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় বসে ভ্যান ভর্তি নানান ধরনের ফল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মৌসুমি এই ফলগুলো দিয়ে বানানো হয় বিভিন্ন ধরনের ভর্তা। যেমনঃ কলা ভর্তা, বরই ভর্তা, আমড়া ভর্তা, পেয়ারা ভর্তা প্রভৃতি। যদি আপনি টক এবং ঝাল খেতে পছন্দ করেন তবে আপনার জিভে জল আনতে এই ভর্তাগুলো বেশ পারদর্শী। যেকোনো ভর্তার দাম এখানে ১০ টাকা থেকে শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে ‘বৈশাখী কাবাব ঘর’ নামের নতুন একটি কাবাবের দোকান সম্প্রতি চালু হয়েছে।

ভাবার কোন কারণ নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্ট্রিট ফুডগুলো শুধু ঝালখোরদের কথা মাথায় রেখেই বানানো হয়। আপনি যদি মিষ্টি খেতে পছন্দ করেন তবে আপনার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। ডাকসুর সামনেই দেখা মেলে এই মিষ্টির ভ্যানের। সেখানে রয়েছে নাটোরের মিষ্টি, সন্দেশ, বগুড়ার দই। এবং এই মিষ্টিগুলোর মূল্য প্রতি পিস ১০ টাকা। দইয়ের ক্ষেত্রে দামটা ৩০ টাকা। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায় বিভিন্ন রকম মিল্কশেক, শরবত, কফি ইত্যাদি।

এবার যাওয়া যাক টিএসসির দিকে। দেখা যাক সেখানকার রাস্তায় আমরা খাবার মত কি পাই। টিএসসির অপর নাম যেন তারুণ্যের মেলা। আর গরম ধোঁয়া ওড়া চায়ের কাপ ছাড়া তরুণদের আড্ডা কি কখনো জমে? টিএসসিতে ঢুকতেই তাই চোখে পড়ে বিভিন্ন স্বাদের বাহারি সব চায়ের সমাহার। মাল্টা চা, মরিচ চা, তেঁতুল চা, দুধ চা, মাল্টোভা চা, হরলিক্স চা, রঙ চা, লেবু চা- কি নেই সেখানে! স্বাদভেদে চায়ের দাম ভিন্ন হয়। আর টিএসসি মানেই এক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছে স্বপন মামার চায়ের দোকান। জনপ্রিয় এই চায়ের স্টলটিতে সারাক্ষণ ভিড় লেগেই থাকে। এছাড়া টিএসসিতে রয়েছে জিভে জল আনা ‘চাট’ যা কিনা ভারতের অনুকরণে এখানেও পানি পুরি নামে খ্যাত। প্রতি প্লেটের মূল্য মাত্র ২০ টাকা।

কার্জন হল নিজেই একটি ঐতিহাসিক জায়গা, তার উপর সেখানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ডিপো। কাজেই বাসের জন্য অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে পানি পুরি, ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, চানাচুর মাখা, কদমা, বালুসাই, লেবুর শবরত, কোল্ড কফির বিশাল আয়োজন নিয়ে বসে থাকেন সবার প্রিয় মামারা।
এছাড়া মল চত্বরে, হলগুলোর সামনে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের পুকুরগুলোর পাড়ে আরও নানা ধরণের স্ট্রিট ফুডের সমাহার দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে আসা কপোত-কপোতীরা এখানে বাদাম ছাড়াও চিবানোর মতো আরও অনেক কিছুই পেয়ে যান। তবে রাস্তার খাবার খেয়ে খাবারের অবশিষ্টাংশটুকু রাস্তায় ফেলে পরিবেশ দূষণ না করাটাই সমীচীন হবে। দিনশেষে নিজের দোষে প্রাণের ক্যাম্পাসে যদি প্রাণ খুলে শ্বাসই না নিতে পারলেন তবে সে দায়ভার কিন্তু আপনার উপরেই বর্তাবে।