Dhaka University Mass Communication and Journalism Department News Portal

"আলো দেখছে কমনরুম"

জেনিফার কামাল

ডিইউএমসিজেনিউজ.কম

প্রকাশিত : ০৮:৪৩ পিএম, ৭ নভেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:০৫ এএম, ৮ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার

কলাভবনের নিচতলার ক্যান্টিন

কলাভবনের নিচতলার ক্যান্টিন

কিছুদিন আগে ঘরটি ছিলো অন্ধকারাচ্ছন্ন। ঘরের সব বাতি জ্বালিয়ে আর সব কটি জানালা খুলে দিয়েও অন্ধকার দূর হতো না। কাঠ আর বোর্ডের কয়েকটি টেবিল ছড়ানো-ছিটানো। কোনোটার পায়া হেলে গিয়েছে, কোনোটার কোনা ভাঙা, কোনোটা ঘুণপোকায় ভঙ্গুরপ্রায়। চেয়ারগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। ঠিক এমনটায় ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের নিচতলার কমনরুমের চিত্র। বেশি শোচনীয় অবস্থায় ছিলো কমনরুমের টয়লেট।

কলা ভবনে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২৮টি বিভাগের ছাত্রীদের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি কমনরুম। কয়েক দিন আগে ভাদ্রের এক দুপুরে ঘুরে ঘুরে দেখা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমনরুমগুলো। কলা ভবনে নিচতলা আর চারতলার দুটি কমনরুম দেখা হলো। কথা হয় ছাত্রীদের সঙ্গে। তাঁরা জানিয়েছেন তাঁদের কমনরুম নিয়ে কিছু সমস্যা ও পরামর্শ।

আগে নিচতলায় ৫০ জন ছাত্রীর বসার ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় ছিলো খুব কম। এ জন্য ক্লাসের ফাঁকের সময়টুকু কাটাতে ছাত্রীদের ঠাঁই নিতে হয় করিডর, ভবনেরসামনের ফাঁকা জায়গা কিংবা টিএসসিতে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় পরীক্ষার সময়। জায়গার সংকট আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে কোনোভাবেই কমনরুমে পড়াশোনা করা সম্ভব হতোনা বলে জানান অনেক ছাত্রী।

বর্তমানে নিচতলার কমনরুমে এসেছে পরিবর্তন। ভাঙ্গা টেবিল চেয়ারের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে লাল রঙের ফোমের সোফা। বাথরুমে করা হয়েছে টাইলস এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিষ্কার এবং দুর্গন্ধমুক্ত। এ কমনরুমের সঙ্গে রয়েছে পাঁচটি বাথরুম যা মাঝে মধ্যে ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত হয়ে উঠেনা। ফলে টয়লেটে যেতে ছাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, অনেক সময় লাইন ধরতে হয়।

কিন্তু অপরিবর্তনীয় রয়েছে চারতলার কমনরুম। যেখানে মাত্র ৬০জন ছাত্রীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানের টয়লেটের অবস্থা আরও খারাপ। দুটি টয়লেট আছে, যা ছাত্রীদের জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয়। এ ছাড়া টয়লেটগুলো দুর্গন্ধ, নোংরা, ময়লায় পরিপূর্ণ, একটার কল দিয়ে আবার সব সময় পানি ঝরছে। টয়লেটের সামনের জায়গাটি কাদা মাখামাখি হয়ে থাকে। ফলে অনেকক্ষন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করলেও টয়লেটে যেতে চায়না ছাত্রীরা।  

ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী তানজিনা আহমেদ বলেন, ‘টয়লেট এত নোংরা আর গন্ধ, কত দিন টয়লেটের সামনে গিয়েও ফিরে এসেছি।একে তো নোংরা, তার ওপর অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বলে টয়লেটে যাই না।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক রেজওয়ানুল হক রব্বানী বলেন, দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রথলি বড় হয়ে যায়। এতে পূর্ণভাবে প্রস্রাব না হওয়ায় নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। ফলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, তলপেট বা কোমরে ব্যথা, স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে জ্বর আসতে পারে। এ ছাড়া এতে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

নিচতলায় এখন খাবারে বাড়তি আইটেম যোগ করা হয়েছে। খাবার গরম করে দেওয়ার জন্যে ওভেনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে খাবার থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়, এমনকি স্বাস্থ্যকরও নয় বলেও দাবি ছাত্রীদের। ক্যান্টিনের নোংরাভাব এখন দূর হয়নি।চারতলার কমনরুমে সিঙ্গারা, সমুচা,ডিম, চিপস, কোক ছাড়া তেমন কিছুই পাওয়া যায়না।

একজন ছাত্রী রুবাবা ইসলাম জানায়, “একবছর আগের চেয়ে নিচতলার কমনরুমে অনেক পরিবর্তন এসেছে। নোংরা ময়লা কমনরুম দেখতে দেখতে একসময় কমনরুমে আসাই বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন কমনরুম আর টয়লেট অনেক উন্নত হয়েছে। আশা করি চারতলার কমনরুমের দিকে এবার নজর দেওয়া হবে”।  

নিচতলার কমনরুমের তত্ত্বাবধায়নে থাকা আসিয়া খাতুন থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আগে কমনরুমের অবস্থা অনেক শোচনীয় ছিলো। সেজন্য ছাত্রীরাও দায়ী। তারা যদি একটু সচেতন হয় তবে এখন কমনরুমের যে উন্নয়ন হয়েছে তা ধরে রাখা যাবে।“

নিচতলার কমনরুমে একটি নামাজ ঘরও রয়েছে। তবে সেখানেও বেশি মেয়ে বসতে পারেনা। তেমন কোন সুব্যবস্থাই চোখে পড়েনি নামাজঘরে। একটি পাটি বিছিয়ে কেউ বসে থাকে কেউ নামাজ পড়ে।

ঢাবির প্রোক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীকে কলাভবনের কমনরুমের বিষয় জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “কমনরুমের অবস্থার দিকে প্রশাসনের নজর রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই কলাভবনের দুইটি কমনরুমের অবস্থার উন্নতির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“